“পুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে বিছানায় পড়তে চান না কি? উৎসবের মরশুমে কোন মারাত্মক ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন জেনে নিন!”

ঋতু পরিবর্তনের জেরে এমনিতেই জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো ভাইরাল সংক্রমণের প্রকোপ বাড়ছে। তার ওপর দুর্গাপুজোর এই আনন্দঘন মরশুমে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো, দীর্ঘক্ষণ ভিড়ের মধ্যে থাকা, বাইরের ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া এবং দৈনন্দিন রুটিনে অনিয়মের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ কিংবা দীর্ঘস্থায়ী কিডনির অসুখে আক্রান্ত প্রবীণ ও ক্রনিক রোগীদের এই কটা দিন চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস।

ভিড়ে কীভাবে বাঁচবেন ভাইরাসের হাত থেকে?

চিকিৎসকদের মতে, জনবহুল প্যান্ডেল বা মণ্ডপগুলিতে কার শরীরে ভাইরাস রয়েছে তা বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই। তাই এই ধরনের জনবহুল জায়গায় মাস্ক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যাঁদের ক্রনিক অসুখ রয়েছে বা যাঁরা নিয়মিত স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খান, তাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ভাইরাস সাধারণত নাক ও মুখের মাধ্যমেই শরীরে বাসা বাঁধে। তাই মাস্ক পরার পাশাপাশি নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা এবং না ধোয়া হাতে চোখ, নাক বা মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

খাদ্যাভ্যাস ও পরিচ্ছন্নতায় নজর

ঋতু পরিবর্তনের সময় গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে ঠান্ডা জল বা পানীয় পানের প্রবণতা দেখা যায়। যদিও ঠান্ডা জল খেলেই সরাসরি ভাইরাল সংক্রমণ হয়, এমন কোনো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবুও ভাইরাসের সংস্পর্শ এড়াতে এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই প্রধান প্রতিরোধ।

পাশাপাশি, উৎসবের দিনে মশাবাহিত রোগ বিশেষ করে ডেঙ্গি থেকে বাঁচতে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, বাইরে বের হওয়ার সময় সবসময় ফুলহাতা জামা এবং ফুল প্যান্ট পরা উচিত। বাড়ি কিংবা আশপাশের চত্বরে যাতে কোথাও বৃষ্টির জল জমতে না পারে, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে হবে।

পুজোর কটা দিন বাইরে খাওয়া-দাওয়ার আনন্দ নিতে গিয়ে পেট খারাপ বা ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের মতো পেটের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। রাস্তাঘাটের খোলা বা অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং অনিরাপদ পানীয় জল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সবসময় পরিচিত এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জায়গা থেকেই খাওয়া-দাওয়া করা উচিত।

ক্রনিক রোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

উৎসবের উত্তেজনায় দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তরা অনেক সময়ই তাঁদের ওষুধের নির্দিষ্ট সময় বা রুটিন গুলিয়ে ফেলেন। চিকিৎসকের মতে, এই অনিয়ম শারীরিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। ডায়াবিটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক আছে কি না তা নিয়মিত মাপা দরকার। একইভাবে হার্ট বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই নিজেদের প্রেসক্রাইবড ওষুধ বন্ধ বা তার মাত্রা পরিবর্তন করবেন না। অনেক সময় ভাইরাল সংক্রমণের পরেও দীর্ঘদিন ধরে কাশি থেকে যায়। তবে ওষুধ খাওয়ার পরও যদি সেই কাশি না কমে, তবে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আসল কারণ খতিয়ে দেখা উচিত।