স্মৃতি আর স্বাদের শহর কলকাতায় এবার ঘনিয়ে এল ঘোর সংকট। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে দেশজুড়ে যে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের হাহাকার শুরু হয়েছে, তার সবথেকে বড় কোপ পড়ল শহরের খাদ্যরসিকদের ওপর। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে ধুঁকছে কলকাতার ছোট-বড় কয়েক হাজার রেস্তরাঁ। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের অনেক পুরনো এবং নামী রেস্তরাঁ এখন বাধ্য হয়ে কয়েক দশক পিছিয়ে গিয়ে কাঠকয়লার উনুন বা ‘স্টোভ’-এ ফিরে যাচ্ছে।
মেনু কার্ডে কাঁচি: গ্যাসের জোগান অনিয়মিত হওয়ায় রেস্তরাঁ মালিকরা তাঁদের মেনু কার্ডে বড়সড় কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন। যেসব পদ রান্না করতে দীর্ঘ সময় লাগে বা উচ্চতাপে গ্যাসের প্রয়োজন হয়, সেইসব খাবার আপাতত তালিকায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক জায়গায় বিরিয়ানি বা তন্দুরি আইটেম তৈরির পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের এক জনপ্রিয় রেস্তরাঁ মালিকের কথায়, “আমাদের কাছে স্টকে যা গ্যাস আছে, তাতে বড়জোর দু-তিন দিন চলবে। নতুন সিলিন্ডার মিলছে না। তাই অনেক মেনু আপাতত বন্ধ রাখতে হচ্ছে।”
অতীতের স্মৃতি বনাম বর্তমানের লড়াই: যাঁরা দীর্ঘকাল ধরে গ্যাস ওভেনে অভ্যস্ত, তাঁদের কাছে কাঠকয়লায় ফিরে যাওয়াটা যেমন কষ্টকর, তেমনই ব্যয়বহুল। এর ফলে খাবারের স্বাদ বদলে যাওয়ার আশঙ্কা যেমন থাকছে, তেমনই রান্নার সময়ও বেড়ে যাচ্ছে অনেক গুণ। ফলে অর্ডারের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পর্যটক— সকলের মুখেই এখন একটাই প্রশ্ন, এই সংকট কি কাটবে? না কি চিরতরে বদলে যাবে বাঙালির রসনাতৃপ্তির চেনা ছন্দ?