দীর্ঘ ৫০ দিন অতিক্রান্ত। তবুও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর শেষকৃত্য নিয়ে রহস্য কাটছে না। কেন এক মাসেরও বেশি সময় ধরে থমকে আছে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া? এই প্রশ্নই এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্দরমহলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এর নেপথ্যে কি কেবল ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের ভয়, না কি ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার অলিন্দে শুরু হয়েছে কোনো বড় সংঘাত?
যুদ্ধের মেঘ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন: সূত্রের খবর, ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের বর্তমান সম্পর্কের যা অবনতি হয়েছে, তাতে যেকোনো বড় জমায়েতকে টার্গেট করতে পারে ইজরায়েলি বায়ুসেনা। খামেনেইর শেষকৃত্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামার কথা। এমতাবস্থায় নিরাপত্তার ঝুঁকি নিতে চাইছে না ইরান প্রশাসন। অনেকেই মনে করছেন, ইজরায়েলি ড্রোন বা মিসাইল হামলার ভয়েই কি এই গোপনীয়তা?
ক্ষমতার লড়াই না কি মৃত্যু পরবর্তী উত্তরাধিকার? খামেনেইর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে ইরানের ভেতরেই শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, নতুন নেতার নাম ঘোষণা এবং তাঁর হাতে শাসনভার তুলে দেওয়ার আগে কোনো রকম অস্থিরতা চায় না তেহরান। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পিছিয়ে দিয়ে কি আসলে সময় কেনা হচ্ছে?
আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি:
ইজরায়েল ফ্যাক্টর: ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্রমাগত হামলার হুমকি দিচ্ছে ইজরায়েল।
অর্থনৈতিক সংকট: দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ধামাচাপা দিতেও এই খবরকে ব্যবহার করা হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।
গোপন প্রস্তুতি: কেউ কেউ দাবি করছেন, কোনো এক বিশেষ মুহূর্তে সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শন করে এই শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চায় ইরান।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও সরকারিভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো হয়নি। তবে ৫০ দিনের এই নীরবতা বিশ্বমঞ্চে ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।





