মর্মান্তিক! অন্ধ্রপ্রদেশের ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে পদপিষ্টে মৃত অন্তত ১০ ভক্ত, ভাইরাল ভিডিওতে ধরা পড়ল বীভৎস দৃশ্য

পুজোর ঝুড়ি হাতে অসংখ্য মহিলার ঠাসা ভিড়। ছোট্ট জায়গায় আটকা পড়ে শ্বাস নেওয়ার জন্য ছটফট করছেন অনেকে, কেউ আবার সাহায্য চেয়ে চিৎকার করছেন। শেষ পর্যন্ত সেই ভিড়ের চাপেই পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল অন্তত ১০ জন ভক্তের, যাঁদের বেশিরভাগই মহিলা। মর্মান্তিক সেই দৃশ্য ভাইরাল ভিডিওতে ধরা পড়েছে।

ঘটনাস্থল অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলম জেলার কাশিবুগ্গা, ভগবান শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দির। একাদশীর পুজো উপলক্ষে সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার ভক্ত।

ভাইরাল ভিডিওতে বিভীষিকা:
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মন্দিরের সরু করিডরে লোহার রেলিংয়ের দু’পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শতাধিক মহিলা। আচমকা হুড়োহুড়িতে তাঁরা একে অন্যের উপর পড়ে যান। কেউ মরিয়া হয়ে লোহার রেলিং টপকে পালানোর চেষ্টা করছেন, কেউ কান্না জুড়ে দিয়েছেন। চারদিকে শোনা যাচ্ছিল, ‘বাঁচাও’, ‘বাঁচাও’ আর্তনাদ। কিছু পুরুষ ভক্ত প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন তাঁদের টেনে তুলতে।

চাঞ্চল্যকর ভিডিওতে আরও ধরা পড়েছে, কয়েকজন আহতকে মন্দিরের বাইরেই আত্মীয়রা সিপিআর (CPR) দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক:
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন:

“ভেঙ্কটেশ্বরা মন্দিরে এই মর্মান্তিক পদপিষ্টে প্রাণহানি অত্যন্ত দুঃখজনক। আহতদের দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছি।”

তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে উদ্ধারকাজ তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্স-এ শোকবার্তা জানিয়েছেন, “এই মর্মান্তিক পদপিষ্টে প্রাণহানিতে আমি গভীরভাবে ব্যথিত। আহতরা দ্রুত সুস্থ হোক, এই প্রার্থনা করছি।”

প্রশাসনিক ত্রুটি ও বিতর্কের ঝড়:
উপ-মুখ্যমন্ত্রী পাওন কল্যাণ জানিয়েছেন, “এই দুর্ঘটনা গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। কাশিবুগ্গার এই মন্দিরটি বেসরকারি সংস্থার তত্ত্বাবধানে চলে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে।”

কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা: সরকারি সূত্রের দাবি, মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রশাসনকে জানায়নি যে, একাদশীতে বিপুল ভিড় হবে। তাছাড়া, যে এলাকায় ভক্তরা জমা হয়েছিলেন, সেটি তখনও নির্মাণাধীন ছিল।

কিউ ম্যানেজমেন্টে জোর: পাওন কল্যাণ এন্ডাওমেন্টস দফতরের কর্তাদের সঠিক কিউ ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছেন, যেন মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধদের কোনো অসুবিধা না হয়।

মুখ্যমন্ত্রী নাইডুর পুত্র নারা লোকেশও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পথে এবং তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। রাজ্যপাল এস. আব্দুল নাজিরও শোক প্রকাশ করে আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন।