পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচজন মন্ত্রী শপথ নিলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বিশেষ করে অর্থ দফতরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলি এখনও খালি রয়েছে। নবান্ন ও রাজভবন সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার তালিকা ঘোষণা হতে চলেছে। তবে এর মাঝেই সবথেকে বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজ্যের আগামী অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে। রাজনৈতিক মহলের জোরালো খবর, প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যালকেই এই গুরুদায়িত্ব দিতে চলেছেন শুভেন্দু।
নন্দীগ্রামের সমীকরণ ও সঞ্জীব সান্যাল:
সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন, যার অর্থ তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে নন্দীগ্রামে উপ-নির্বাচন এখন সময়ের অপেক্ষা। জল্পনা ছড়িয়েছে, এই নন্দীগ্রাম থেকেই বিজেপির টিকিটে লড়তে পারেন সঞ্জীব সান্যাল। যদি তিনি জয়ী হন, তবে রাজ্যের অর্থ ব্যবস্থার হাল ফেরাতে তাঁকে সরাসরি অর্থমন্ত্রীর পদে বসানো হতে পারে। দিল্লির রাজপথ থেকে কলকাতার প্রশাসনিক অলিন্দে সঞ্জীব সান্যালের এই পদার্পণ বাংলার অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কে এই সঞ্জীব সান্যাল?
সঞ্জীব সান্যাল কেবল একজন নামী অর্থনীতিবিদই নন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য। কলকাতার মাটিতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। সেন্ট জেমস এবং সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের কৃতী ছাত্র সঞ্জীব পরবর্তীতে দিল্লির শ্রী রাম কলেজ অব কমার্স থেকে শিক্ষালাভ করেন। এরপর অক্সফোর্ডের সেন্ট জন কলেজ থেকে দর্শন, রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর পাণ্ডিত্যের পরিধি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
ব্যাঙ্কিং জগত থেকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শদাতা:
পেশাগত জীবনে সঞ্জীব সান্যাল ডয়েস ব্যাঙ্কের (Deutsche Bank) গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস্ট এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দীর্ঘকাল কাজ করেছেন। তবে কেবল কর্পোরেট জগত নয়, গবেষণার টানে তিনি একাধিকবার পেশা পরিবর্তন করেছেন। ২০১৫ সালে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর ২০১৭ সালে তিনি ভারত সরকারের অর্থ মন্ত্রকের প্রিন্সিপাল ইকোনমিক অ্যাডভাইজার হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।
রাজ্য এখন বিপুল ঋণের ভারে জর্জরিত। এমন এক কঠিন সময়ে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এক অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। শুভেন্দু অধিকারী ও সঞ্জীব সান্যালের এই মেলবন্ধন বাংলার ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় প্রাণ ফেরাতে পারবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আপামর রাজ্যবাসী।





