পাঁচ মাস আগেই করা এক জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী যেন আজ অক্ষরে অক্ষরে ফলে যাচ্ছে। প্রশান্ত কিনি নামের ওই জ্যোতিষী গত বছর সেপ্টেম্বরেই সতর্ক করেছিলেন যে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ভারতে বড় ধরনের জ্বালানি ও এলপিজি সঙ্কট তৈরি হবে। আজ সেই দুঃসময়ই যেন দেশের দোরগোড়ায়।
ইরান-মার্কিন-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কার্যত স্তব্ধ। ভারতের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করতে হয়, যার ৮৫-৯০ শতাংশই আসে এই পথ দিয়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ায় দেশের বাজারে গ্যাসের হাহাকার তৈরি হয়েছে। ছোট দোকানদাররা ২৫০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম আকাশছোঁয়া।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানে। রেস্তোরাঁ ও ধাবাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ গিগ কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফুড ডেলিভারি ব্যবসার পরিধি ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে গেছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বড় রেস্তোরাঁ—সবখানেই আজ অনিশ্চয়তার মেঘ। সাধারণ মানুষ এখন শুধু একটাই প্রশ্ন করছেন, এই সঙ্কট কি আদৌ কাটবে, নাকি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে? একদিকে মুদ্রাস্ফীতি, অন্যদিকে সরবরাহ ঘাটতি—সব মিলিয়ে মধ্যবিত্তের জীবন এখন এক চরম পরীক্ষার মুখে।