বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন বলে পরিচিত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান। যুদ্ধের আবহে তেহরানের সাফ হুঁশিয়ারি—এই জলপথে কোনো জাহাজ দেখলেই তা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। এই চরম উত্তেজনার জেরে পূর্ব ও পশ্চিম মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীর দুই দিকে বর্তমানে ৭০৬টি তেলের ট্যাঙ্কার ও মালবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে। জোগান বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা। ভারতের রান্নার গ্যাসের (LPG) চাহিদার প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশই মেটানো হয় আমদানির মাধ্যমে, যার বড় অংশ আসে এই পথ দিয়েই। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ এলপিজি মজুত রয়েছে, তাতে বড়জোর দুই সপ্তাহ চলা সম্ভব। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ জোগান স্বাভাবিক রাখার কথা ভাবছে কেন্দ্র। পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তৈলমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জানিয়েছেন, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ভারতের হাতে শোধনাগার ও বন্দরে যে পরিমাণ তেল মজুত আছে, তাতে ৭৪ দিন চালানো সম্ভব। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষকে জ্বালানি ব্যবহারে রাশ টানতে হতে পারে।