এক ছাদের নিচে আর নয়! TMCP-র প্রতিষ্ঠা দিবসে কলকাতার বুকে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল মমতা ও ঋতব্রত শিবির!

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসকে কেন্দ্র করে শাসক দলের অন্দরে তৈরি হওয়া ফাটল এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক শহীদ দিবসের পর এবার ২৮ অগাস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন ফের একবার শাসক দলের অন্দরে ‘আড়াআড়ি’ বিভাজনের চেনা ছবি ধরা পড়ল। দলের অন্দরের এই দ্বন্দ্বে রাতভর প্রস্তুতি নিয়ে কলকাতার একাধিক জায়গায় পৃথক মঞ্চ ও সভা করতে দেখা গেল যুযুধান দুই শিবিরকে।
এদিন সকালে কলকাতার বিশিষ্ট স্থান বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মূল মঞ্চ তৈরি করা হয়। অন্যদিকে, কালীঘাটেও দলের তরফে আলাদা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এখানেই শেষ নয়, রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে সম্পূর্ণ পৃথকভাবে নিজস্ব কর্মসূচি ও জমায়েতের আয়োজন করে ঋতব্রত শিবির। দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে এই ধরনের পৃথক কর্মসূচি এবং শক্তির প্রদর্শন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে গত কয়েক দিন ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে বেআইনি বিলবোর্ড ও হোর্ডিং খোলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যে চরম জলঘোলা শুরু হয়েছিল, তা এখনও তুঙ্গে রয়েছে। এই বিতর্ক শুধু রাজনৈতিক তরজাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা আইনি লড়াইয়ের পথে গড়িয়েছে এবং ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে এই মামলা আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
অন্যদিকে, এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার মধ্যেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জর্জরিত নেপালে নিখোঁজ বাঙালি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও খোঁজখবর নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পরিবারগুলির মধ্যেও তীব্র উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। প্রশাসন এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা জারি থাকলেও এখনও পর্যন্ত মেলেনি কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্বস্তিদায়ক খবর। একদিকে দলের অন্দরে ক্ষমতার লড়াই ও আইনি জটিলতা, আর অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিখোঁজ পর্যটকদের নিয়ে তৈরি হওয়া মানবিক সংকট—সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এক মোড় নিয়েছে।