নির্বাচনের মুখে বঙ্গ রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতা। বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাক (I-PAC) প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) অভিযান চালাতেই রণংদেহী মেজাজে ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি চলাকালীন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়া বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমে লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছান পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাইকে চমকে দিয়ে সরাসরি প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। মিনিট পনেরো ভিতরে থাকার পর যখন তিনি বেরোলেন, তখন তাঁর হাতে ছিল একটি সবুজ ফাইল। এছাড়াও ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক এবং প্রতীকের ফোন নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় তাঁকে। এর পর তিনি সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের আইপ্যাক অফিসেও যান, যেখান থেকেও পুলিশ আধিকারিকদের সহায়তায় বেশ কিছু নথিপত্র নিজের কনভয়ে তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী।
অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ: প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, “প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি আধিকারিকরা আমাদের দলের সমস্ত হার্ডডিস্ক, প্রার্থীদের তালিকা এবং নির্বাচনী কৌশল চুরি করতে এসেছিল। এটাই কি অমিত শাহের কাজ? যিনি দেশকে রক্ষা করতে পারেন না, তিনি আমার দলের তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছেন।” মমতা আরও দাবি করেন যে, আইপ্যাক তাঁর আইনি অফিসের মতো কাজ করে, সেখানে হানা দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিজেপির পাল্টা তোপ: মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “আইপ্যাকের কাছে ভোটার লিস্ট কেন থাকবে? কেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে মুখ্যমন্ত্রী বাধা দিচ্ছেন?” মমতার উদ্ধার করা ওই সবুজ ফাইলে তৃণমূলের কোনো ‘প্রাণভোমরা’ বা গোপন তথ্য লুকানো রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইডি হানা চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সশরীরে উপস্থিতি এবং নথি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া রাজ্য বনাম কেন্দ্র সংঘাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।