শরীরে ইউরিক অ্যাসিড কমানোর প্রাকৃতিক উপায়, জেনেনিন বিস্তারে

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া বা হাইপারইউরিসেমিয়া এখন বিশ্বজুড়েই বড় সমস্য়ার চেহারা নিয়েছে। বহু মানুষই আক্রান্ত হচ্ছেন এতে। বিশেষ করে গত ২ বছরে এই সমস্যা আরও বেড়ে গিয়েছে। শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, খাদ্যাভ্যাসে বদল, জল কম খাওয়া, বেশি ক্যালোরি যুক্ত খাবার— এর সবই ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

ইউরিক অ্যাসিড শরীরের একটি বর্জ্য। শরীর থেকে ঠিক সময়ে বেরিয়ে না গেলে এগুলি হাড় এবং গাঁটে গাঁটে জমা হতে পারে। এই সব জায়গায় ব্যথা তো বটেই এর ফলে হার্ট এবং কিডনির সমস্যাও দেখা দেয়। এ ছাড়াও বাতের সমস্যাও সৃষ্টি হতে পারে এতে। এ জন্য শরীরে ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন কমানো উচিত এবং সেটি যাতে শরীর থেকে সঠিক সময়ে বেরিয়ে যেতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ দীক্ষা ভাবসার বলেছেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই সমস্যাকে প্রতিহত করতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমাতে পারে।

কী কী কারণে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ে?

বিপাক হার কম, হজম ক্ষমতা দুর্বল।
দিনের বেশির ভাগ সময় বসে থাকা, শরীরচর্চার অভাব।
বেশি প্রোটিন এবং কম চর্বি যুক্ত খাবার খাওয়া।
গুরুপাক বা ভারী ডিনার করা।
প্রতি দিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে না যাওয়া এবং খাবার না খাওয়া।
জল কম খাওয়া।
কিডনির সমস্যা।
অতিরিক্ত মাত্রা আমিষ খাবার খাওয়া।
কী করে স্বাভাবিক উপায়ে কমানো যায় ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা?

রোজ অন্তত ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করা।
সঠিক পরিমাণে জল খাওয়া।
রাতে ডাল, বিনস বা গমের খাবার না খাওয়া।
রাত ৮টার মধ্যে ডিনার সেরে ফেলা।
আমলিকা বা বেরি জাতীয় ফল বেশি করে খাওয়া।
বিপাক হার বাড়ানোর চেষ্টা করা।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
যতটা ভালো করে সম্ভব ঘুমোনো।
আয়ুর্বেদ কী বলছে?

ইউরিক অ্যাসিড কমানোর জন্য আয়ুর্বেদেও বেশি কিছু উপশমের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে গুলঞ্চ (Giloy)-এর কথা। এই পাতা সারা রাত ভিডিয়ে রাখুন। সকালে থেঁতো করে নিন। তার পরে এক গ্লাস জলে দিয়ে ফোটাতে শুরু করুন। ফুটিয়ে জল অর্ধেক হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। তার পরে ঠান্ডা করে এটি খেয়ে নিন। এতে নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে ইউরিক অ্যাসিড।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy