কথায় বলে, মুখ দেখে মানুষ চেনা দায়। কিন্তু সমুদ্রশাস্ত্র এবং আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার কিছু বিশেষ তথ্য বলছে অন্য কথা। কোনো মানুষের সাথে দীর্ঘ সময় না কাটিয়েও কেবল তাঁর হাতের আঙুলের গঠন লক্ষ্য করলেই নাকি বোঝা সম্ভব সেই মানুষটির ব্যক্তিত্ব কেমন!
আঙুলের গঠন ও ব্যক্তিত্ব: কী বলছে বিজ্ঞান ও শাস্ত্র?
গবেষক এবং ফিজিওগনোমি (Physiognomy) বিশেষজ্ঞদের মতে, আঙুলের দৈর্ঘ্য ও আকৃতি মানুষের স্বভাবের এক বিশেষ দর্পণ। মূলত তিনটি প্রধান ধরণ আমরা দেখতে পাই:
১. অনামিকা তর্জনীর চেয়ে বড় হলে (Type A): যাদের অনামিকা (Ring Finger) তর্জনীর চেয়ে লম্বা হয়, তাঁরা সাধারণত অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং আত্মবিশ্বাসী হন। এরা ঝুঁকি নিতে ভালোবাসেন এবং যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে পারেন। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এঁরা কিছুটা আক্রমণাত্মকও হতে পারেন।
২. তর্জনী অনামিকার চেয়ে বড় হলে (Type B): যদি তর্জনী (Index Finger) লম্বা হয়, তবে সেই ব্যক্তি জন্মগতভাবেই নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করেন। এঁরা খুব গোছানো এবং শান্ত স্বভাবের হন। তবে একা থাকতে ভালোবাসেন এবং লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী হন।
৩. তর্জনী ও অনামিকা সমান হলে (Type C): এই ধরনের মানুষেরা সাধারণত শান্তিপ্রিয় এবং ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে চলেন। এঁরা খুব বিশ্বস্ত বন্ধু এবং ভালো জীবনসঙ্গী হিসেবে প্রমাণিত হন। এঁদের সাথে কথা বললে এক ধরণের মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়।
কেন এই পার্থক্য?
বিজ্ঞানীদের মতে, মাতৃগর্ভে থাকাকালীন টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রার তারতম্যের কারণে আঙুলের দৈর্ঘ্যে এই পার্থক্য ঘটে, যা পরবর্তী জীবনে মানুষের আচরণ ও ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলে।
সতর্কবার্তা: মানুষ চেনার এই পদ্ধতিটি একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণ মাত্র। পূর্ণাঙ্গভাবে কাউকে বিচার করার জন্য তাঁর সাথে মেশা এবং আচরণের ওপর নজর দেওয়া সবচেয়ে জরুরি। তবে প্রাথমিক ধারণা পেতে এই ট্রিকস বেশ কার্যকর হতে পারে।