ঋতু পরিবর্তনের হাত ধরেই ঘরে ঘরে থাবা বসাচ্ছে ‘বসন্ত’ বা চিকেনপক্স। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও, বড়দের ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠতে পারে ভয়াবহ। বিশেষ করে স্কুলে যাওয়া খুদেদের মধ্যে সংক্রমণের হার বাড়ছে, যা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
সবচেয়ে বড় বিপত্তি হলো আমাদের প্রচলিত কিছু ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে। অনেকেই মনে করেন, “একবার পক্স হলে নাকি আর কোনোদিন হয় না।” চিকিৎসাশাস্ত্র বলছে— এই ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন! একবার আক্রান্ত হওয়ার পর পুনরায় পক্স হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই সাবধান থাকা ছাড়া অন্য পথ নেই।
ভারতে কোথায় বাড়ছে আতঙ্ক?
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের কিছু অঞ্চলে চিকেনপক্সের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে কেরলের এরনাকুলাম (Ernakulam) জেলায় গত ১৮ই জানুয়ারি পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে ২২৮টি কেস। পিছিয়ে নেই নাগপুরও; সেখানেও শীতের মরশুমে শিশুদের মধ্যে হু হু করে ছড়াচ্ছে এই সংক্রমণ। যদিও পরিস্থিতি এখনও মহামারির আকার নেয়নি, তবে চিকিৎসকরা আগাম সতর্কবার্তা জারি করেছেন।
কীভাবে ছড়ায় এই ভাইরাস?
চিকেনপক্স মূলত ভেরিসেলা জোস্টার (Varicella-zoster) নামক ভাইরাসের কারণে হয়। এটি অত্যন্ত সংক্রামক:
আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে এটি বাতাসে ছড়ায়।
ফুসকুড়ির রস বা আক্রান্ত স্থান স্পর্শ করলেও সংক্রমণ হতে পারে।
ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার ২ দিন আগে থেকেই রোগী সংক্রামক হয়ে ওঠেন এবং পুরোপুরি শুকানো না পর্যন্ত এটি ছড়াতে পারে।
লক্ষণ যা দেখে সতর্ক হবেন:
সাধারণত ৪ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এই রোগের দাপট। শরীরে যে উপসর্গগুলো খেয়াল রাখবেন:
হালকা থেকে মাঝারি জ্বর।
পেট, পিঠ বা মুখে লাল ফুসকুড়ি।
মারাত্মক চুলকানি ও অস্বস্তি।
সতর্কবার্তা: বড়দের ক্ষেত্রে পক্সের জটিলতা শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে, তাই লক্ষণ দেখামাত্রই ঘরোয়া উপচারের ভরসায় না থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
প্রতিরোধের শক্তিশালী কবচ:
১. টিকাকরণ: চিকেনপক্স রুখতে টিকাই সবচেয়ে কার্যকরী অস্ত্র। শিশুদের জন্য টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ২. আইসোলেশন: আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন, বিশেষ করে ফুসকুড়ি না শুকানো পর্যন্ত। ৩. পরিচ্ছন্নতা: বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার অভ্যাস করুন। ৪. চুলকানি নিয়ন্ত্রণ: ফুসকুড়ি নখ দিয়ে চুলকাবেন না, এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।