মেদ ঝরাতে গিয়ে কি ক্লান্ত? থাইরয়েড রোগীদের ওজন কমানোর এই গোপন উপায় জানলে চমকে যাবেন!

বর্তমান সময়ে থাইরয়েড বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এক মহামারী রূপ নিয়েছে। ঘরে ঘরে মহিলারা তো বটেই, পুরুষরাও এই সমস্যায় আক্রান্ত। থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এই গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং দ্রুত ওজন বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ওজন কমানো এক কঠিন লড়াই হয়ে দাঁড়ায়। শত চেষ্টা করেও ওজন না কমলে হতাশ হয়ে পড়েন অনেকেই। তবে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও কৌশল মেনে চললে থাইরয়েডের সমস্যাতেও সহজে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

প্রথমত, ডায়েটে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রোটিন মেটাবলিজমকে দ্রুত সচল রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। ডিম, মাছ, লিন মিট, ডাল এবং পনির নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন। দ্বিতীয়ত, কার্বোহাইড্রেটের ধরন বদলান। রিফাইন্ড বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট যেমন ময়দা, সাদা চিনি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পূর্ণ বর্জন করে ব্রাউন রাইস, ওটস, জোয়ার এবং বাজরার মতো জটিল শর্করা বা কমপ্লেক্স কার্ব বেছে নিন। তৃতীয়ত, আয়োডিন এবং সেলেনিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া আবশ্যক। থাইরয়েড হরমোন সঠিকভাবে উৎপাদনের জন্য আয়োডিন এবং সেলেনিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম, ব্রাজিল নাট এবং শাকসবজি থাইরয়েড ফাংশন উন্নত করতে সাহায্য করে।

চতুর্থত, পর্যাপ্ত জলপান এবং হাইড্রেশন বজায় রাখা। জল মেটাবলিজমকে বুস্ট করতে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন দূর করে। পঞ্চমত, নিয়মিত এক্সারসাইজ ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট। যোগব্যায়াম, কার্ডিও এবং প্রাণায়াম থাইরয়েডের কার্যক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকরী। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাত্রাই পারে থাইরয়েডের কারণে বেড়ে যাওয়া ওজন সফলভাবে কমাতে।