ফল হিসেবে বেদানার কদর চিরকাল। কিন্তু আপনি কি জানেন, এক বাটি বেদানার চেয়ে এক গ্লাস বেদানার রস আপনার শরীরের জন্য কতটা শক্তিশালী হতে পারে? পুষ্টিবিদদের মতে, বেদানার রস বা ডালিমের রস হলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস, যা কেবল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং অকাল বার্ধক্য রোধেও অনবদ্য।
কেন বিশেষজ্ঞরা বেদানার রসকে ‘সুপার ড্রিঙ্ক’ বলছেন? দেখে নিন এর ৫টি সেরা উপকারিতা:
১. রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করে: বেদানার রসে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে। যারা রক্তস্বল্পতা বা দুর্বলতায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি ওষুধের বিকল্প হিসেবে কাজ করে।
২. হার্ট থাকে চনমনে: নিয়মিত বেদানার রস পান করলে ধমনীতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। এটি রক্তনালীর দেওয়ালে চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
৩. স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধি: সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বেদানার রস মস্তিষ্কের কোষকে সজীব রাখে। এটি বিশেষ করে আলঝেইমার্স বা স্মৃতিভ্রংশ রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়।
৪. ত্বকের জেল্লা ও উজ্জ্বলতা: এতে থাকা ভিটামিন-সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের ভেতরের টক্সিন বের করে দেয়। ফলে ব্রণর সমস্যা কমে এবং ত্বক হয় উজ্জ্বল ও টানটান। এটি প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন হিসেবেও কাজ করে।
৫. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: যারা হাই ব্লাড প্রেসারের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য বেদানার রস মহৌষধ। এটি রক্তনালীকে শিথিল করে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় নামিয়ে আনতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞের বিশেষ টিপস: বেদানার রসের পূর্ণ উপকার পেতে এতে বাড়তি চিনি বা লবণ মেশাবেন না। প্যাকেটজাত জুসের বদলে বাড়িতে তৈরি টাটকা রস পান করা সবচেয়ে ভালো। তবে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তারা এটি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।