বাঙালি মানেই মাছের ঝোল হোক বা বিরিয়ানি— আলু ছাড়া সবটাই ফিকে। কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতনতায় অনেকেই ইদানীং খাদ্যতালিকা থেকে আলুকে ব্রাত্য করে রেখেছেন। আপনিও কি মনে করেন আলু খেলে ওজন বাড়ে? তাহলে এবার আপনার ধারণা বদলানোর সময় এসেছে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক উপায়ে প্রতিদিন আলু খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং পাওয়া যায় অভাবনীয় কিছু স্বাস্থ্যসুবিধা।
রোজ আলু খাওয়ার ৮টি চমকপ্রদ উপকারিতা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং ফাইবার। এটি শরীরের সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রেখে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
২. হজমশক্তির উন্নতি: সেদ্ধ বা গ্রিল করা আলুতে থাকা ফাইবার পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে এবং হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে কার্যকর।
৩. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: আলুতে কোলেস্টেরল নেই এবং এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালীর দেওয়ালে চর্বি জমতে বাধা দেয়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
৪. তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস: আলু কার্বোহাইড্রেটের ভাণ্ডার। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরকে সচল রাখতে এটি দারুণ এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করে।
৫. উজ্জ্বল ত্বক: আলুর রস বা খাদ্য তালিকায় আলুর উপস্থিতি ত্বকের দাগছোপ দূর করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন-সি ত্বকের কোলাজেন বৃদ্ধি করে উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি এবং বি-কমপ্লেক্স থাকায় নিয়মিত আলু খেলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।
৭. মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: আলুতে থাকা ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের ‘সেরোটোনিন’ এবং ‘ডোপামিন’ নামক হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে, যা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।
৮. হাড়ের সুরক্ষা: আলুতে থাকা আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিংক হাড়ের গঠন মজবুত করতে এবং বাত বা হাড়ের ব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
বিশেষ সতর্কবার্তা: আলুর এই উপকারিতাগুলো তখনই পাবেন যখন আপনি এটি ভাজা বা চিপস হিসেবে না খেয়ে সেদ্ধ, রোস্ট বা ঝোলে দিয়ে খাবেন। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত তেল-মশলায় ভাজা আলু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।