খেলতে খেলতে বাচ্চা বিছানা থেকে পড়ে গেছে? আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত করুন এই ৩টি কাজ!

ছোট বাচ্চা ঘরে থাকলে দুর্ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় চোখের পলকেই কোল কিংবা বিছানা থেকে গড়িয়ে পড়ে যায় শিশু। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ বাবা-মা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কী করবেন বুঝতে পারেন না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাচ্চার পড়ে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসময় আপনার সঠিক সিদ্ধান্তই বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

বাচ্চা বিছানা থেকে পড়ে গেলে যা যা করা জরুরি:

১. শান্ত থাকুন ও শিশুকে পর্যবেক্ষণ করুন
বাচ্চা পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার বা কান্নাকাটি করবেন না, এতে শিশু আরও ভয় পেয়ে যায়। শান্ত হয়ে বাচ্চাকে কোলে নিন এবং আলতো করে দেখুন শরীরের কোথাও কোনো ক্ষত বা হাড়ের অস্বাভাবিকতা আছে কি না। বাচ্চা যদি সঙ্গে সঙ্গে কেঁদে ওঠে, তবে বুঝতে হবে সে জ্ঞান হারায়নি—যা একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

২. ফোলা স্থানে ঠান্ডা সেঁক দিন
মাথার কোথাও বা কপালে ফুলে গেলে সেখানে বরফ বা পরিষ্কার ঠান্ডা কাপড়ের সেঁক দিন। এতে ফোলা কমে এবং শিশু আরাম পায়। তবে মনে রাখবেন, পড়ে যাওয়ার পর বাচ্চাকে জোর করে থামানোর জন্য ঝাঁকাবেন না।

৩. ২৪ ঘণ্টা কড়া নজর রাখুন
পড়ে যাওয়ার পর শিশু যদি কিছুক্ষণ কেঁদে স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং খেলাধুলা করে, তবুও আগামী ২৪ ঘণ্টা তার ওপর নজর রাখুন। অনেক সময় অভ্যন্তরীণ আঘাতের লক্ষণ প্রকাশ পেতে দেরি হয়।

কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে? (বিপদচিহ্ন)
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে:

বমি হওয়া: পড়ে যাওয়ার পর এক বা একাধিকবার বমি করলে।

অস্বাভাবিক ঘুম: শিশু যদি অনেক বেশি নিস্তেজ হয়ে যায় এবং ঘুম থেকে জাগানো কঠিন হয়।

খিঁচুনি: যদি বাচ্চার হাত-পা অস্বাভাবিকভাবে কাঁপে বা খিঁচুনি হয়।

অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: যদি শিশু কয়েক সেকেন্ডের জন্যও জ্ঞান হারায়।

নাক বা কান দিয়ে রক্ত: নাক বা কান দিয়ে রক্ত বা জলীয় কোনো তরল বের হলে।

অবিরাম কান্না: যদি শিশু কোনোভাবেই শান্ত না হয় এবং অনবরত চিৎকার করতে থাকে।

প্রতিরোধই সেরা উপায়
বাচ্চাকে বিছানায় রাখলে চারদিকে বালিশের দেয়াল তৈরি করুন।

উপুড় হতে শেখে এমন শিশুদের কখনোই একা বিছানায় রেখে অন্য কাজে যাবেন না।

মেঝেতে কার্পেট বা নরম ম্যাট বিছিয়ে রাখতে পারেন যাতে পড়ে গেলেও আঘাত কম লাগে।

উপসংহার: বাচ্চা পড়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরা জরুরি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছোটখাটো চোট নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে বিপদচিহ্নগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রত্যেক বাবা-মায়ের দায়িত্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy