ওজন কমাতে না খেয়ে কষ্ট নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাসই আসল! বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন এমনটাই

ওজন কমানোর কথা মাথায় এলেই প্রথম যে ধারণাটি আসে, তা হলো খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ওজন কমাতে হলে খাওয়ার পরিমাণ নয়, বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
তাদের মতে, মিষ্টি ও জাঙ্কফুড বাদ দিয়ে যদি বেশি পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যায়, তাহলে ওজন কমার সম্ভাবনাই বেশি, বাড়ার নয়। অনেকেই মনে করেন, অল্প পরিমাণে খেলেই দ্রুত ওজন ঝরানো সম্ভব। তবে পেট খালি রেখে কষ্ট না করেও যে ওজন কমানো যায়, তা অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না।
আশার কথা হলো, পেট ভরে খেয়েও আপনি ছিপছিপে গড়ন পেতে পারেন। খাওয়ার পরিমাণ না কমিয়েও যদি ওজন কমাতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে:
১. খনিজ পদার্থে ভরপুর খাবার বেশি খান:
ফল, সবজি ও বাদামের মতো খনিজ পদার্থে ভরপুর খাবার আপনার খাদ্যতালিকায় বেশি করে যোগ করুন। এই ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ থাকে, অথচ ক্যালোরির পরিমাণ থাকে খুবই কম। ফলে এগুলো খেলে আপনার ওজন বাড়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।
২. মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করুন:
আপনার খাবারের পরিমাণ যাই হোক না কেন, তা যেন অতিরিক্ত মিষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। সামান্য পরিমাণ চিনিও খুব দ্রুত আপনার ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, এটি ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।
৩. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন:
শরীরের পেশী সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন খাওয়া অত্যাবশ্যক। দিনের তিন বেলায় অল্প পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। এর ফলে কিছুক্ষণ পরপর ভাজাপোড়া ও মিষ্টি জাতীয় অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। ডিম, মাছ, মাংস, ডাল এবং বিভিন্ন বীজ প্রোটিনের ভালো উৎস।
৪. শরীরচর্চার বিকল্প নেই, তবে হাঁটাচলা জরুরি:
ওজন কমানোর জন্য শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। তবে যদি নিয়মিত ব্যায়াম করার সময় না পান, তাহলে অন্ততপক্ষে হাঁটাচলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু কাজ বেছে নিন যেখানে আপনার হাঁটাচলা বেশি হবে। ঘর পরিষ্কার করা, কাপড় কাচা, রান্নাবান্নার মতো কাজগুলো বেশি করে করুন। এর ফলে আপনাকে আর কম খেয়ে কষ্ট করতে হবে না। লিফট বা এসকেলেটরের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন এবং কাছাকাছি দূরত্বে পায়ে হেঁটে চলার অভ্যাস তৈরি করুন।
এই চারটি বিষয় যদি আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনে মেনে চলতে পারেন, তাহলে না খেয়ে কষ্ট করেও দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব। মনে রাখবেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সামান্য শারীরিক কার্যকলাপই আপনাকে একটি সুস্থ ও সুন্দর শরীরের অধিকারী করতে পারে।