ইনস্টাগ্রাম রিলস হোক বা ফেসবুকের স্কিনকেয়ার গ্রুপ— বর্তমানে চুলের যত্নে সবথেকে আলোচিত নাম হলো ‘রোজমেরি ওয়াটার’ (Rosemary Water)। দাবি করা হচ্ছে, এই জল ব্যবহার করলেই নাকি বন্ধ হবে চুল পড়া, আর গজাবে নতুন একঝাঁক চুল। কিন্তু এই ট্রেন্ডের পেছনে কতটা বিজ্ঞান আছে আর কতটা কেবলই রটনা? চলুন দেখে নেওয়া যাক।
রোজমেরি ওয়াটার কী?
রোজমেরি হলো একটি সুগন্ধি ভেষজ গাছ। এই গাছের পাতা জলে ফুটিয়ে যে নির্যাস বা ইনফিউশন তৈরি করা হয়, তাকেই বলা হয় রোজমেরি ওয়াটার। এটি সাধারণত স্ক্যাল্পে স্প্রে হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বিজ্ঞান ও গবেষণার রিপোর্ট কী বলছে?
মজার বিষয় হলো, সরাসরি রোজমেরি জলের কার্যকারিতা নিয়ে এখনও বড় কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়নি। তবে রোজমেরি অয়েল বা তেল নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে:
২০১৫ সালের গবেষণা: একটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রোজমেরি তেল ব্যবহার করলে চুলের ঘনত্ব বাড়তে পারে এবং চুল পড়া কমে।
ক্লিনিক্যাল স্টাডি: সাম্প্রতিক কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে, রোজমেরি অয়েল চুলের দৈর্ঘ্য বাড়াতে সহায়ক। তবে গবেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব জানতে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন।
জল না তেল— কোনটি বেশি কার্যকর?
চিকিৎসকদের মতে, রোজমেরি জলে সক্রিয় উপাদানগুলি (Active Ingredients) তেলের তুলনায় অনেক বেশি পাতলা বা হালকা থাকে। তাই আপনি যদি ভাবেন যে তেলের মতো সমান কাজ করবে এই জল, তবে ভুল ভাবছেন।
বিশেষজ্ঞের পর্যবেক্ষণ: রোজমেরি জল মূলত স্ক্যাল্পকে সতেজ রাখে, খুশকি বা চুলকানি কমাতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে এবং চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। কিন্তু রাতারাতি টাক মাথায় চুল গজানোর কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনও মেলেনি।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা (Dermatologist Advice):
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন যে, লাইফস্টাইল বা সাধারণ যত্নে রোজমেরি তেল বা জল সাহায্য করতে পারে। কিন্তু যদি আপনার চুল পড়া জেনেটিক (Hormonal) হয় বা অ্যালোপেশিয়ার মতো কোনো গুরুতর সমস্যা থাকে, তবে শুধু ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা করা বোকামি।
পরামর্শ: যদি অস্বাভাবিক হারে চুল পড়তে থাকে, তবে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড দেখে সময় নষ্ট না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।