বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনে বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে এই বন্ধুত্ব করতে গিয়ে অনেক সময় অভিভাবকত্বের গাম্ভীর্য হারিয়ে যায়, যা সন্তানের ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আপনি আপনার সন্তানের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হবেন ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে আপনার পরিচয় একজন ‘গাইড’ বা অভিভাবক। বন্ধুত্বের পাশাপাশি কীভাবে বজায় রাখবেন অভিভাবকত্বের সীমানা? দেখে নিন ৫টি উপায়:
আবেগীয় সমর্থন বনাম প্রশ্রয়: সন্তানের সব কথা মন দিয়ে শুনুন, বন্ধুর মতো তার সমস্যা বুঝুন। কিন্তু তার ভুল আবদার বা অন্যায়ে প্রশ্রয় দেবেন না। তাকে বুঝতে দিন যে বন্ধুর মতো সাপোর্ট দিলেও আপনি তার অভিভাবক।
নিয়ম ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব: বাড়িতে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম থাকা প্রয়োজন। খাবার সময় বা পড়ার সময়—এই বিষয়গুলোতে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। বন্ধুত্ব মানেই নিয়মহীনতা নয়, বরং শৃঙ্খলার মধ্যে ভালোবাসা।
পরামর্শ দিন, আদেশ নয়: বন্ধুর মতো করে তাকে কোনো কাজের ভালো-মন্দ দিক বুঝিয়ে বলুন। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করুন, কিন্তু সরাসরি হুকুম দেবেন না। এতে সে আপনার ওপর বিরক্ত না হয়ে শ্রদ্ধাশীল হবে।
ব্যক্তিগত সীমানা (Privacy): সন্তানের গোপনীয়তাকে সম্মান করুন, কিন্তু তার বন্ধু সার্কেল বা ডিজিটাল অ্যাক্টিভিটির ওপর নজর রাখুন। বন্ধুত্ব এমন পর্যায়ে নিয়ে যান যাতে সে নিজে থেকেই আপনাকে সব বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
রোল মডেল হওয়া: মনে রাখবেন, সন্তান আপনার বন্ধু হলেও সে আপনাকে দেখে শেখে। আপনার আচরণে যদি দায়িত্বশীলতা থাকে, তবে সে আপনাকে বন্ধুর চেয়েও বেশি সম্মান দেবে।
সঠিক ভারসাম্যই পারে আপনার সন্তানকে একজন আত্মবিশ্বাসী ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে।





