বর্তমান সময়ে চারপাশের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে সন্তানের শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়টি মায়েদের সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় শিশু অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হলেও বুঝতে পারে না বা ভয়ে বলতে চায় না। তাই খুব ছোটবেলা থেকেই শিশুকে ‘গুড টাচ’ (Good Touch) এবং ‘ব্যাড টাচ’ (Bad Touch) এর পার্থক্য শেখানো বিলাসিতা নয়, বরং আবশ্যিক।
মা হিসেবে আপনি কীভাবে আপনার সন্তানকে এই বিষয়টি সহজভাবে বোঝাবেন? রইল কিছু কার্যকরী টিপস:
১. শরীরের ব্যক্তিগত অঙ্গের ধারণা দিন
শিশুকে খুব সহজ ভাষায় বোঝান যে, শরীরের কিছু অংশ একেবারেই ব্যক্তিগত বা ‘প্রাইভেট পার্টস’। যেমন— ঠোঁট, বুক এবং উরুর মধ্যবর্তী অংশ। তাকে পরিষ্কার বলে দিন যে, মা বা বাবা (পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনে) এবং ডাক্তার (বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে) ছাড়া আর কেউ এই অংশগুলো দেখতে বা স্পর্শ করতে পারবে না।
২. ‘ভালো স্পর্শ’ কী তা বোঝান
যখন আপনি শিশুকে আদর করেন, মাথায় হাত বুলিয়ে দেন বা বন্ধুরা হাত মেলায়—সেটি যে ভালো স্পর্শ এবং এতে যে মনের আনন্দ হয়, তা তাকে বুঝিয়ে বলুন। এটি শিশুকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে শেখাবে।
৩. ‘খারাপ স্পর্শ’ বা অস্বস্তি চিনতে শেখান
শিশুকে শেখান, যদি কেউ তার ব্যক্তিগত অঙ্গে হাত দেয় বা এমনভাবে স্পর্শ করে যাতে তার ভয় লাগে বা অস্বস্তি হয়, তবে সেটিই ‘ব্যাড টাচ’। এমনকি কেউ যদি তাকে স্পর্শ করে বিষয়টি ‘গোপন’ রাখতে বলে, তবে সেটি যে বড় বিপদ—তা তাকে সাহস দিয়ে বুঝিয়ে বলুন।
৪. ‘না’ বলার সাহস তৈরি করুন
শিশুকে শেখান যে তার শরীরের ওপর পূর্ণ অধিকার তারই। পরিচিত বা অপরিচিত যেই হোক না কেন, কেউ অস্বস্তিকর কিছু করলে সে যেন জোরে ‘না’ বলে এবং সেখান থেকে দ্রুত সরে আসে। তাকে আশ্বস্ত করুন যে, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ করলে সে কোনো ভুল করবে না।
৫. ‘সিক্রেট’ বা গোপন কথা নয়
হিলারি ক্লিনটন একবার বলেছিলেন, শিশুদের শেখাতে হবে যে বড়দের সাথে কোনো ‘খারাপ গোপন কথা’ রাখা যাবে না। শিশুকে বলুন, কেউ যদি তাকে ভয় দেখায় বা এমন কিছু বলে যা আপনার কাছে বলতে নিষেধ করে, সে যেন অবশ্যই সবার আগে আপনাকে এসে জানায়। তাকে বিশ্বাস করান যে আপনি সবসময় তার পাশে আছেন।
মায়েদের জন্য বিশেষ টিপস:
সন্তানের সঙ্গে প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট মন খুলে কথা বলুন। তার সারাদিনের খুঁটিনাটি শুনুন। যখন সে বুঝবে আপনি তার কথা মন দিয়ে শোনেন, তখন সে কোনো বিপদে পড়লে লুকোনোর বদলে আপনাকেই প্রথম জানাবে।





