গর্ভাবস্থায় কি অন্যকে দেখে ডায়েট চার্ট বানাচ্ছেন? অজান্তেই নিজের ও শিশুর বিপদ ডেকে আনছেন না তো!

গর্ভাবস্থা প্রতিটি নারীর জীবনে এক অনন্য সময়। এই সময়ে হবু মায়েদের মনে খাবার নিয়ে কৌতূহলের শেষ থাকে না। অনেক সময় তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্য হবু মায়েদের খাদ্যাভ্যাস দেখে নিজেদের রুটিন ঠিক করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই প্রবণতা মা ও শিশু— উভয়ের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় কেবল ‘বেশি খাওয়া’ বড় কথা নয়, বরং সঠিক খাবার সঠিক পরিমাণে খাওয়াটাই আসল চাবিকাঠি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, প্রতিটি হবু মায়ের শরীরের গঠন, বয়স এবং জীবনযাত্রা আলাদা। তাই একজনের ডায়েট চার্ট অন্যজনের জন্য কার্যকর না-ও হতে পারে। ব্যক্তিগত পুষ্টি পরিকল্পনা না থাকলে রক্তাল্পতা বা ভ্রূণের সঠিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কেন সবার ডায়েট আলাদা হওয়া জরুরি? বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মায়ের শরীরে হয়তো আয়রনের ঘাটতি আছে, আবার কারও ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি কম। অনেকের ক্ষেত্রে থাইরয়েড বা জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা থাকে। এই শারীরিক জটিলতাগুলো মাথায় না রেখে যদি গড়পড়তা একটি তালিকা মেনে চলা হয়, তবে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। সঠিক পুষ্টি কেবল ভ্রূণের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে না, বরং প্রি-টার্ম ডেলিভারি বা কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়।

যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন: একজন পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসক যখন হবু মায়ের জন্য তালিকা তৈরি করেন, তখন তিনি কয়েকটি বিষয়ে নজর দেন— হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, রক্তচাপ, শর্করার পরিমাণ এবং পূর্ববর্তী গর্ভধারণের ইতিহাস। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ফলিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও আয়রনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। মনে রাখবেন, গর্ভাবস্থায় পুষ্টি মানে কেবল পেট ভরানো নয়, এটি একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া যা আপনার সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy