দীর্ঘ ১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে ফের জাতীয় স্তরের জুডো প্রতিযোগিতার আসর। শনিবার হাওড়ার ডুমুরজলা ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে জুনিয়র জাতীয় জুডো চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-২৬। এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের জীবনসংগ্রাম ও আগামীর স্বপ্নের কথা শোনালেন ভারতের গর্ব, বিশ্বজয়ী জুডোকা লিনথোই চানামবাম।
“সবকিছু পাওয়ার জন্যই লড়তে হয়েছে”
২০২২ সালে বিশ্ব জুডো ক্যাডেটস চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন মণিপুরের এই তরুণী। কিন্তু এই সাফল্যের রাস্তা মসৃণ ছিল না। হাওড়ায় দাঁড়িয়ে লিনথোই বলেন:
-
“অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে আমার জন্ম। ছোটবেলা থেকে দুবেলা অন্নসংস্থান বা কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়ার জন্যই আমাকে লড়াই করতে হয়েছে।”
-
তাঁর সাফ কথা, “বেঁচে থাকার এই লড়াইয়ের তুলনায় জুডো ম্যাটের লড়াই অনেক সহজ। আজ আমি যা সম্মান বা স্বীকৃতি পাচ্ছি, তার সবটাই এই খেলার অবদান।”
ভারতীয় জুডোর ভবিষ্যৎ এবং কোচ মামুকা
লিনথোইয়ের এই বিশ্বজয়ের নেপথ্যে রয়েছেন জর্জিয়ার বিশ্বখ্যাত কোচ মামুকা কিজিলাশভিলি। ২০১৭ সাল থেকে ভারতে থাকা এই কোচ স্বপ্ন দেখছেন ২০২৮ অলিম্পিক নিয়ে। তিনি বলেন:
“জর্জিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ৩০ লক্ষ, তারা যদি জুডোয় বিশ্বসেরা হতে পারে, তবে ১৪৫ কোটির ভারত কেন পারবে না? ভারতে জুডোর পরিকাঠামো আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।”
মামুকা আরও জানান, তিনি ২০২৮ সাল পর্যন্ত ভারতে আছেন এবং এই সময়ের মধ্যে লিনথোইয়ের পাশাপাশি একঝাঁক নতুন প্রতিভাকে অলিম্পিকের জন্য তৈরি করতে চান।
বাংলায় জুডোর পুনর্জাগরণ
২০১১ সালের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ বড় কোনো জুডো প্রতিযোগিতার আয়োজন করল। রাজ্যের জুডো প্রেমীদের জন্য এটি একটি বড় মাইলফলক। হাওড়ায় শুরু হওয়া এই চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কয়েকশো প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন, যাদের কাছে লিনথোই এখন অনুপ্রেরণার অপর নাম।