২২ গজের লড়াই শুরু হতে এখনও কয়েক ঘণ্টা বাকি, কিন্তু তার আগেই মাঠের বাইরের উত্তাপ পৌঁছে গেল হিমাঙ্কে। টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান মহারণের আগে ফের একবার আলোচনায় সেই বহুচর্চিত ‘হ্যান্ডশেক বিতর্ক’। গত এশিয়া কাপে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভারতীয় দলের সৌজন্য বিনিময় না করার ঘটনা যে ক্ষত তৈরি করেছিল, তা রবিবারের মেগা ম্যাচের আগে আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।
ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘার পাল্টাপাল্টি বয়ানে ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন রবিবারের টসের দিকে।
সূর্যকুমারের রহস্যময় বার্তা
ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে সূর্যকুমারকে যখন প্রশ্ন করা হয়— “কাল কি ভারতীয় দল সৌজন্যের খাতিরে পাক ক্রিকেটারদের সাথে হাত মেলাবে?” ভারত অধিনায়ক মৃদু হেসে এক লাইনে উত্তর দেন, “২৪ ঘণ্টা সবুর করুন না! এখনই এত উত্তেজনা কেন? কাল সবটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।” সূর্যের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু রহস্যময় উত্তর জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভারতীয় দল তাদের ‘নো হ্যান্ডশেক’ পলিসিতে অনড় থাকতে পারে।
কী বলছেন সলমন আলি আঘা?
অন্যদিকে, পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন কিছুটা রক্ষণাত্মক ঢঙেই বল ঠেলে দিয়েছেন ভারতের কোর্টে। তিনি বলেন, “ক্রিকেট তার নিজস্ব স্পিরিট নিয়ে খেলা উচিত। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি সৌজন্য থাকা ভালো, তবে বাকিটা ভারতের সিদ্ধান্ত। আমরা প্রস্তুত আছি।”
বিতর্কের নেপথ্যে পহেলগাঁও হামলা
উল্লেখ্য, গত বছর এপ্রিলে কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে এবং ভারতীয় সেনার প্রতি সংহতি জানিয়ে এশিয়া কাপের আসরে পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন করেননি সূর্যকুমার যাদবরা। এমনকি ম্যাচ জেতার পরও কোনো সৌজন্য বিনিময় ছাড়াই মাঠ ছাড়ে টিম ইন্ডিয়া। ভারতীয় শিবিরের সাফ কথা ছিল— “কিছু জিনিস স্পোর্টসম্যানশিপের ঊর্ধ্বে।”
দৃষ্টি এখন টসের দিকে: কাল টসের সময় দুই অধিনায়ক একে অপরের দিকে হাত বাড়িয়ে দেবেন কি না, নাকি গত বছরের মতো নিঃশব্দ প্রতিবাদ জারি রাখবে ভারত— সেটাই এখন দেখার।