ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা থাকলেও কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে যা চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে, তাতে অলৌকিক কিছু না ঘটলে বাংলার সেমিফাইনালে যাওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে অন্ধ্র প্রদেশের বিরুদ্ধে রানের পাহাড় গড়ল বাংলা। আর এই পাহাড় গড়ার কারিগর নৈহাটির ঘরের ছেলে সুদীপ কুমার ঘরামি। কেরিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করে সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দিলেন এই তরুণ তুর্কি।
ব্যর্থতা ঝেড়ে রূপকথা চলতি মরসুমের শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি সুদীপের। এক সময় ৫ ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ১২ রান। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁর ওপর আস্থা হারায়নি। সেই আস্থার মর্যাদা দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৪৫১ বলে অপরাজিত ২১৬ রানের ইনিংস খেললেন তিনি। তাঁর ২৭টি বাউন্ডারি দিয়ে সাজানো এই ম্যারাথন ইনিংসই অন্ধ্রকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে।
সুমন্ত-শাকিরের যোগ্য সঙ্গত এক সময় ১৫৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলা। সেখান থেকে ষষ্ঠ উইকেটে ১৬৫ রান যোগ করেন সুদীপ ও সুমন্ত গুপ্ত। সুমন্ত ৮১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফিরলেও হাল ছাড়েননি সুদীপ। সপ্তম উইকেট জুটিতে শাকির হাবিব গাঁধীকে (অপরাজিত ৪৫) সঙ্গে নিয়ে আরও ১০০ রান যোগ করেন তিনি। দিনভর ব্যাটিং তাণ্ডবে অন্ধ্রের বোলাররা রবিবার সারাদিনে মাত্র একটি উইকেটই তুলতে পেরেছেন।
লিড ও সেমিফাইনালের অঙ্ক অন্ধ্র প্রদেশের প্রথম ইনিংসের ২৯৫ রানের জবাবে তৃতীয় দিনের শেষে বাংলার স্কোর ৪১৮/৬। অর্থাৎ ইতিমধ্যেই ১২৩ রানের লিড হাসিল করে নিয়েছে অনুষ্টুপ মজুমদারের দল। হাতে রয়েছে আরও ৪ উইকেট। ম্যাচের আরও দু’দিন বাকি থাকলেও, প্রথম ইনিংসের লিডের সুবাদেই বাংলার শেষ চারে যাওয়া কার্যত নিশ্চিত।