বাংলার ক্রিকেটে বসন্ত ফেরাতে পারল না বঙ্গ ব্রিগেড। দলীপ ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলী এবং সবশেষে রঞ্জি ট্রফি—তিনটি সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতাতেই এ বছর গ্রুপ পর্যায়ে মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলা। কোয়ার্টার ফাইনালে একপেশে লড়াইয়ের পর সেমিফাইনালের দোরগোড়ায় পৌঁছেও শেষরক্ষা হলো না সুদীপ ঘরামীদের। ট্রফি তো দূরস্ত, একের পর এক হার বাংলার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। তবে দলের এই কঠিন সময়েও পাশে দাঁড়ালেন প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি তথা বাংলার গৌরব সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
ব্যর্থতার খতিয়ান ও সুদীপের নিঃসঙ্গ লড়াই: চলতি মরশুমে বাংলার ব্যাটিং লাইনআপের কঙ্কালসার চেহারা বারবার সামনে এসেছে। অভিমন্যু ঈশ্বরন বা অনুষ্টুপ মজুমদারের মতো অভিজ্ঞরা থাকলেও, টপ অর্ডারে একমাত্র সুদীপ ঘরামী ছাড়া আর কোনো ব্যাটার নিয়মিত রান পাননি। ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণেই বড় রানের টার্গেট দিতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে দল। কোয়ার্টার ফাইনালে ভাগ্য সহায় না থাকায় সেমিফাইনালের টিকিট হাতছাড়া হয়েছে সুদীপদের। গোটা মরশুমে দলের ভাঁড়ার শূন্য থাকায় সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
সৌরভের অভয়বাণী: দলের এই বিপর্যয়ের দিনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “হার-জিত খেলার অংশ। ছেলেরা চেষ্টা করেছে, কিন্তু ফল সবসময় পক্ষে আসে না।” তিনি মনে করেন, বাংলার ক্রিকেটে প্রতিভা আছে, তবে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। সৌরভের এই সমর্থন দলের ভেঙে পড়া মনোবল চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আগামী মরশুমে ব্যাটিং অর্ডারে বড়সড় অস্ত্রোপচার না করলে বাংলার ক্রিকেট মানচিত্রে ঘুরে দাঁড়ানো মুশকিল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।