পাকিস্তানে (Pakistan) ফের জঙ্গি হামলার (Terror Attack) কারণে আতঙ্কের ছায়া। ইসলামাবাদে আত্মঘাতী হামলার পর দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই সফরে থাকা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল (Sri Lanka Cricket Team) তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এবং আটজন খেলোয়াড় দ্রুত পাকিস্তান ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (SLC) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, বোর্ডের নির্দেশ অমান্য করে কেউ দেশ ছাড়লে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত খেলোয়াড়রা, দেশে ফেরার দাবি
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ইসলামাবাদে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের পর শ্রীলঙ্কা শিবিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের সময় পাকিস্তানী দলও সেই এলাকাতেই ছিল। এরপরই শ্রীলঙ্কা দলের আটজন খেলোয়াড় এবং কিছু সাপোর্ট স্টাফ দ্রুত দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। খেলোয়াড়দের বক্তব্য, পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে এবং পাকিস্তানে থাকা এখন আর নিরাপদ নয়। ২০০৯ সালে পাকিস্তান সফর চলাকালীন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের বাসে হামলা হয়েছিল, সেই পুরোনো ক্ষত এখনও শ্রীলঙ্কা শিবিরে দগদগে।
সূত্র অনুযায়ী, সারাদিন শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রা সফর মাঝপথেই বাতিল করে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় ছিলেন। এই সফরে শ্রীলঙ্কা এখন পর্যন্ত মাত্র একটি একদিনের ম্যাচ খেলেছে, যেখানে তাদের আরও দুটি ম্যাচ বাকি আছে। এর পরে তাদের পাকিস্তানের মাটিতেই জ়িম্বাবোয়ে-সহ ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজও খেলার কথা রয়েছে।
শ্রীলঙ্কা বোর্ডের কঠোর মনোভাব: নির্দেশ অমান্য করলেই শাস্তি
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (SLC) খেলোয়াড়দের পাকিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। বোর্ড বলেছে যে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) এবং স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তার সম্পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে, তাই কারও ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
SLC তাদের বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনও খেলোয়াড় বা স্টাফ সদস্য বোর্ডের নির্দেশ অমান্য করে পাকিস্তান ছাড়লে, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ, যারা পাকিস্তান ছেড়ে যাবেন, তাদের শ্রীলঙ্কায় ফেরার পর বোর্ডের কড়া পদক্ষেপের সম্মুখীন হতে হবে।
ম্যাচের সূচি পরিবর্তন
খেলোয়াড়দের উদ্বেগ দেখে গভীর রাতে বোর্ড, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং পাকিস্তানী নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হয়। এর ফলস্বরূপ, বাকি দুটি একদিনের ম্যাচ একদিন করে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। PCB-র সভাপতি মহসিন নকভি জানিয়েছেন যে, এখন এই ম্যাচগুলি ১৪ এবং ১৬ নভেম্বর খেলা হবে।
এই ঘটনা পাকিস্তানের ভাবমূর্তির জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা। বারবার জঙ্গি হামলার কারণে আন্তর্জাতিক দলগুলি সেখানে সফর করতে ভয় পাচ্ছে, যা দেশটির ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর।