অভিশপ্ত আহমেদাবাদে নয়া ইতিহাস! কোহলি-রোহিতের যন্ত্রণা মুছে বিশ্বজয়ের উল্লাসে ভারত

জেকব ডাফির ক্যাচটা বাউন্ডারি লাইনে তিলক ভার্মা ধরতেই আহমেদাবাদের আকাশ-বাতাস যেন কেঁপে উঠল। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী—গোটা ভারত আজ উৎসবের রঙে রঙিন। অধিনায়ক সূর্যের চোখে জল, বুমরা-শিবমদের নাচ আর কমেন্ট্রি বক্সে ইরফান পাঠানের উদ্দাম নাচ; এই ছবিটাই তো দেখতে চেয়েছিল দেশ। ২০১৯ বা ২০২৩-এর সেই হৃদয়ভাঙা যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে ভারত আজ বিশ্বজয়ের মুকুটে নতুন পালক যোগ করল।

এই জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে সঞ্জু স্যামসন। এক মাস আগেও যাঁর দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে সংশয় ছিল, তিনিই আজ টুর্নামেন্টের সেরা। ভাগ্য আর পরিশ্রমের মেলবন্ধনে অভিষেক শর্মার বদলে দলে সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করলেন সঞ্জু। ইডেন, ওয়াংখেড়ে আর ফাইনালের আহমেদাবাদ—সঞ্জুর তিনটে ইনিংসই ভারতের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। সচিন তেন্ডুলকরের পরামর্শে নিজের ব্যাটিং টেকনিকে বদল এনে সঞ্জু আজ ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন ‘চেত্তা’ হিসেবে উঠে এসেছেন।

ম্যাচ শেষে তৃপ্ত কোচ গৌতম গম্ভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণকে। গম্ভীর স্পষ্ট করলেন, তাঁদের সাফল্যের চাবিকাঠি ছিল ‘হাই রিস্ক গেম’। রক্ষণাত্মক মানসিকতা ছেড়ে ২৫০ রান তোলার জেদই ভারতকে বিশ্বসেরা করেছে। রোহিত, ধোনি, কপিল দেবের মতো কিংবদন্তিদের সামনে ভারত আজ অভিশাপমুক্ত করল আহমেদাবাদকে। সঞ্জুর মতো খেলোয়াড়রাই প্রমাণ করলেন, সুযোগের সঠিক ব্যবহার করলে অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। এক নতুন ভারতীয় ক্রিকেটের উদয় হলো আজ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy