১৫ বছরেই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন! অরেঞ্জ ক্যাপ জেতা বৈভবের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বোমা

গত মরশুমে যখন সে প্রথমবার পেশাদার মঞ্চে পা রেখেছিল, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। সেই শুরু, আর আজ ১৫ বছর বয়সেই সে ভারতীয় ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কথা হচ্ছে বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে। এবারের টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষ বোলারদের ঘুম উড়িয়ে সে অরেঞ্জ ক্যাপ নিজের দখলে রেখেছে। রাজস্থান রয়্যালসকে ফাইনালে নিয়ে যেতে না পারলেও, তার ব্যাটিং পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে ক্রিকেট প্রেমীদের। তবে পদক আর সাফল্যের জোয়ারের মাঝেও বৈভব নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন।
নিজের ক্রিকেট কেরিয়ার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈভব এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতি দিয়ে জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মারকাটারি ব্যাটিং দেখে যখন অনেকেই তাকে শুধুমাত্র ছোট ফরম্যাটের খেলোয়াড় হিসেবে দেখতে চাইছেন, তখন বৈভব স্পষ্ট জানিয়ে দিল তার আসল লক্ষ্য। ফাইনালের রাতে স্টার স্পোর্টসে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ১৫ বছরের এই বিস্ময় বালক বলেছে, “আমি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চাই। আমার বাবা আমাকে ছোট থেকেই শিখিয়েছেন যে, টেস্ট ক্রিকেটই হলো ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এবং আসল মঞ্চ। আমি সেখানেই নিজের সেরাটা দিতে চাই।”
তার এই মন্তব্য ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যখন সমসাময়িক অনেক তরুণ ক্রিকেটার আইপিএল বা টি-টোয়েন্টি লিগের গ্ল্যামার আর অর্থের দিকে ঝুঁকছে, তখন ১৫ বছরের এক কিশোরের মুখে টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্ব শোনার পর ক্রিকেটবোদ্ধারা অবাক হয়েছেন। তার এই মানসিক পরিপক্কতা প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে।
তবে এই সাফল্যের পথ খুব একটা সহজ ছিল না। কিছুদিন আগেই একটি পডকাস্টে এবি ডিভিলিয়ার্স বৈভবকে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। ডিভিলিয়ার্স বলেছিলেন, “আমি নিশ্চিত নই এভাবে কতদিন সে ক্রিকেট মঞ্চে টিকে থাকবে বা নিজেকে কতটা সামলে নিতে পারবে।” কিংবদন্তি ডিভিলিয়ার্সের এই সতর্কবার্তা বৈভবের পারফরম্যান্সের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি, বরং সে যেন নিজের লক্ষ্যকে আরও বেশি আঁকড়ে ধরেছে। অরেঞ্জ ক্যাপ জেতার পরও বৈভবের কণ্ঠে কোনো অহংকার নেই, বরং ভবিষ্যতে টেস্ট ক্রিকেটে দেশের জার্সিতে খেলার অদম্য আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈভবের হাতে স্ট্রোক খেলার দারুণ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে টিকে থাকার জন্য যে ধৈর্য এবং মানসিক দৃঢ়তা প্রয়োজন, তার ১৫ বছর বয়সে সেই গুণ থাকা অত্যন্ত বিরল। রাজস্থান রয়্যালসের মেন্টর থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ—সবাই বৈভবের এই মানসিকতা দেখে মুগ্ধ। আগামী দিনে সে কীভাবে নিজেকে তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। অরেঞ্জ ক্যাপ জিতে সে প্রমাণ করেছে তার ব্যাটিংয়ে ধার আছে, কিন্তু তার স্বপ্নের টেস্ট ময়দানে সে কতটা সফল হয়, তা সময়ই বলবে।