১৪ দল আর ৫৭ ম্যাচের রোমাঞ্চ! দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মাটিতে কবে থেকে শুরু বিশ্বকাপ? জানুন সব তথ্য

২৪ বছর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফের আফ্রিকা মহাদেশের মাটিতে রাজকীয়ভাবে বসতে চলেছে আইসিসি পুরুষ একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর। আগামী ২০২৭ সালের মর্যাদাপূর্ণ এই মেগা টুর্নামেন্ট যৌথভাবে সফলভাবে আয়োজন করতে চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) আনুষ্ঠানিকভাবে গত বৃহস্পতিবার জোহানেসবার্গে আয়োজিত এক জমকালো বিশেষ অনুষ্ঠানে আসন্ন এই বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত মোট ১২টি ঐতিহাসিক ভেন্যুর নাম ও তালিকা প্রকাশ্যে এনেছে। স্মরণ করা যেতে পারে যে, এর আগে ২০০৩ সালে শেষবার আফ্রিকায় বসেছিল ৫০ ওভারের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসর। সেবার দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যৌথভাবে যৌথভাবে বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করেছিল জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া। দীর্ঘ ২৪ বছর পর ২০২৭ সালে সেই প্রাচীন গৌরবময় ঐতিহ্য ফের একবার নতুন আঙ্গিকে ও বিরাট পরিসরে ফিরে আসছে—তবে এবারের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া।
আসন্ন ২০২৭ সালের এই মহা সমারোহে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ম্যাচ আয়োজন করার সুযোগ পাচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির মোট আটটি বিখ্যাত শহরের আটটি বিশ্বমানের ভেন্যুতে বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী নির্বাচিত স্টেডিয়ামগুলি হলো— জোহানেসবার্গের ডি পি ওয়ার্ল্ড ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম, সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্ক, কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড, ডারবানের হলিউডবেটস কিংসমেড স্টেডিয়াম, গেবারহার সেন্ট জর্জেস পার্ক, ব্লুমফন্টেইনের মাঙ্গাউং ওভাল, পার্লের বোল্যান্ড পার্ক এবং ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্ক। অন্যদিকে, সহ-আয়োজক জিম্বাবুয়েতে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলির জন্য মোট তিনটি আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে, যেগুলি হলো হারারে স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়েওয়ের কিউয়েন্স স্পোর্টস ক্লাব এবং ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের নিকটবর্তী একটি একেবারে নতুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। পাশাপাশি, এই প্রথমবার বিশ্বকাপের ইতিহাসের অংশ হতে চলা নামিবিয়ায় বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি আয়োজিত হবে রাজধানী উইন্ডহোকের সুসজ্জিত নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।
আইসিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২০২৭ সালের এই আসন্ন বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সার্বিক ফরম্যাটেও একটি অত্যন্ত বড় ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের এই মেগা আসরে মোট ১৪টি শক্তিশালী জাতীয় দল একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে মোট ৫৭টি রোমাঞ্চকর ম্যাচ খেলা হবে। সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতাটি মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম প্রাথমিক পর্যায়ে থাকবে সুপার সিরিজ। এই পর্বে যোগ্যতা অর্জনকারী মোট ১৪টি দলের মধ্যে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের একদম নিচের দিকে থাকা তিনটি দল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে নিজেদের মধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে এবং সেখান থেকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দলটি সরাসরি পরবর্তী পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। এরপর বাকি দলগুলি সহ মোট ১২টি দলকে সমানভাবে দুটি পৃথক গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপে ছয়টি করে দল থাকবে এবং গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই দলগুলি নিজেদের গ্রুপের অন্য প্রতিপক্ষদের মুখোমুখি হবে। এই প্রাথমিক গ্রুপ পর্বে মোট ৩০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
গ্রুপ পর্বের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই সমাপ্ত হওয়ার পর দুই গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ তিনটি দল এবং উভয় গ্রুপ মিলিয়ে পরবর্তী সেরা একটি দল—সবমিলিয়ে মোট সাতটি দল উন্নীত হবে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ‘সুপার সেভেন’ (Super 7) পর্বে। এই সুপার সেভেন পর্বে মোট ২১টি হাইভোল্টেজ ম্যাচ খেলা হবে। পরবর্তীতে সুপার সেভেন পর্বের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চারটি দল সরাসরি সেমিফাইনালের মহারণে জায়গা করে নেবে। নকআউট পর্বের প্রথম সেমিফাইনালে পয়েন্ট তালিকার প্রথম স্থানে থাকা দল লড়বে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের বিরুদ্ধে, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দল একে অপরের মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। এরপর দুই সেমিফাইনালের বিজয়ী দুটি শক্তিশালী দল ফাইনাল ম্যাচে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে।
আসন্ন এই মেগা টুর্নামেন্ট প্রসঙ্গে আইসিসি (ICC) চেয়ারম্যান জয় শাহ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বলেছেন যে, দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের আফ্রিকা মহাদেশে এই প্রত্যাবর্তন সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাঁর জোরালো অভিমত হলো, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার বিখ্যাত আতিথেয়তা, স্থানীয় জনগণের অকৃত্রিম ক্রিকেটপ্রেম এবং এই তিন দেশের বৈচিত্র্যময় বর্ণিল সংস্কৃতি ২০২৭ সালের এই বিশ্বকাপকে বিশ্ব ক্রীড়া ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ও সফল আসর হিসেবে রূপ দেবে। ইতিমধ্যেই ২০২৭ সালের এই বিশ্বকাপকে সফল করে তুলতে তিন দেশের ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসি যৌথভাবে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। আইসিসি-র প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও ঘোষণা অনুযায়ী, এই বিশ্বকাপের হাত ধরেই দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় পর আফ্রিকায় ফিরছে ক্রিকেটের সবথেকে বড় ৫০ ওভারের বৈশ্বিক আসর।