সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছেও কেন তোপের মুখে পন্থ? খোদ ক্রিকেটারের ওপর বেজায় চটেছেন তারকা স্পিনার!

ইনজুরির শঙ্কাকে একপাশে সরিয়ে রেখে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হওয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ভারতীয় দলের উইকেটকিপার-ব্যাটার ঋষভ পন্থ এক চমৎকার ও অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ ৬৫ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর এই লড়াকু পারফরম্যান্সের পরেও ভারতের তারকা অফ-স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন তাঁর এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং পদ্ধতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অশ্বিনের মতে, আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের আঙিনায় ঋষভ পন্থ এখন আর কোনো নতুন মুখ নন, বরং তিনি যথেষ্ট অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটার। ফলে নিজের অভিজ্ঞতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে শট নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি পরিপক্বতা দেখানো উচিত, না কি বারবার একই ভুল শট খেলে উইকেট ছুড়ে দেওয়া উচিত।

যদিও চলতি দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পন্থ ইতিমধ্যেই মোট ১৬৮ রান সংগ্রহ করেছেন এবং এই ধারাবাহিকতা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে, তবুও তাঁর দায়িত্বজ্ঞানহীন শট সিলেকশন বা শট নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি একেবারেই পছন্দ হয়নি অশ্বিনের। অত্যন্ত সংকটজনক এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও পন্থের ব্যাটিংয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিপক্বতা বা গেম রিডিংয়ের অভাব লক্ষ্য করা গেছে বলে মনে করেন এই অভিজ্ঞ স্পিনার। অশ্বিনের সাফ কথা, পন্থকে নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে যে ‘এক প্রজন্মে একবার জন্ম নেওয়া প্রতিভা’ বা ‘জেনারেশনাল ট্যালেন্ট’ তকমাটি ব্যবহার করা হয়, এবার সেই অন্ধ স্তুতি বন্ধ হওয়া দরকার। মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে পন্থকে নিজস্ব চেনা স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক স্টাইলের চেয়ে ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী ঠান্ডা মাথায় খেলা উচিত।

অশ্বিন তাঁর ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে এই প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেছেন যে, ভারতীয় দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে ঋষভ পন্থের কাছে যতটুকু দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি। সেই কারণে তাঁর মনে এক ধরণের গভীর আক্ষেপও কাজ করছে। প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেটের প্রসঙ্গ তুলে অশ্বিন জানান যে মূল পার্থক্য গড়ে ওঠে অপ্রয়োজনীয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলার প্রবণতার ওপর। যখন ম্যাচ সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তখন প্রায়ই এই অজুহাত দেওয়া হয় যে ‘ঋষভ তো ঠিক এভাবেই নিজের স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলে।’ কিন্তু আসল কথা হলো, মাঠে ব্যক্তিগত বা শৈল্পিক সৌন্দর্যের চেয়ে দল ঠিক এই মুহূর্তে কী চাইছে, সেটাই সবচেয়ে বড় বিচার্য বিষয়। অশ্বিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পন্থ তাঁর বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫২টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ফেলেছেন, যার মধ্যে মাত্র দুই থেকে তিনটি ম্যাচেই তিনি এককভাবে ম্যাচ উইনিং অবদান রাখতে পেরেছেন।

ভারতের এই প্রবীণ স্পিনার বোলার ঋষভ পন্থের সহজাত প্রতিভা ও ক্ষমতার কথা একবাক্যে স্বীকার করলেও একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যখন কোনো টেস্ট ম্যাচ এমন এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়ায়, যেখানে এক মুহূর্তের ভুল সব শেষ করে দিতে পারে, তখন অতি-আক্রমণাত্মক মেজাজ বজায় রাখা মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে। অতীতে সিডনি কিংবা ব্রিসবেনের ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচগুলিতে পন্থের দুর্দান্ত ব্যাটিং পারফরম্যান্সের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েও অশ্বিন মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সেই ম্যাচগুলিতে একার কৃতিত্বে জয় আসেনি। ওয়াশিংটন সুন্দর কিংবা শার্দুল ঠাকুরের মতো সহ-খেলোয়াড়দের অসামান্য অবদান না থাকলে ভারত সেই স্মরণীয় জয়গুলো কখনোই পেত না। একটি টেস্ট ম্যাচ খেলে তা জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে দলের ১১ জন ক্রিকেটারেরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, কিন্তু একটি ম্যাচ পুরোপুরি হেরে যাওয়ার জন্য কেবল এক মুহূর্তের বোকামি কিংবা দায়িত্বজ্ঞানহীন শটই যথেষ্ট।