গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে খাচ্ছেন বেল? আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের এই গোপন টিপস না জানলে সব উপকারিতা মাটি!

গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড দাবদাহ এবং পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার সময় শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখা এবং পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা বরাবরই বেলকে একটি অন্যতম সেরা এবং পুষ্টিকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করে এসেছেন। আপনি হয়তো গরমে তৃষ্ণা মেটাতে বেলের রস বা শরবত খেতে ভালোবাসেন, কিন্তু এই সুস্বাদু পাকা ফলটি অসংখ্য পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ, যা পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে হজমশক্তি উন্নত হয় এবং সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বিভিন্ন পেটের রোগের চিকিৎসায় বেলের বহুমুখী ব্যবহার হয়ে আসছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রায়বেরেলি জেলার সরকারি আয়ুষ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. স্মিতা শ্রীবাস্তব (বিএএমএস) বিস্তারিত জানিয়েছেন যে বেল হলো ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস। আমাদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ প্রবেশ করলে তা একটি সুস্থ পরিপাকতন্ত্র বজায় রাখতে এবং সঠিক মাত্রায় মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণ করতে দারুণ সাহায্য করে। এই কারণেই ঐতিহ্যগতভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিক এবং পেটের নানা জটিল সমস্যার চিকিৎসায় বেল খাওয়ার নিদান দেওয়া হয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বেলের তৈরি ঠান্ডা শরবত অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পানীয়। ঐতিহ্যগতভাবে এটিকে একটি দারুণ শীতল পানীয় হিসেবে গণ্য করা হয়। তীব্র গরমে বেলের শরবত পান করলে শরীর নিমেষে সতেজ ও চনমনে হয়ে ওঠে। তবে মনে রাখতে হবে, বেলের শরবত কখনই সাধারণ জলের বিকল্প হতে পারে না এবং গরমে হাইড্রেটেড থাকার জন্য প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ জল পান করাও সমানভাবে জরুরি।
বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি সহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান এবং বহু কার্যকরী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি শরীরকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, অন্যদিকে ভিটামিন সি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে যদি বেল রাখা যায়, তবে দারুণ পুষ্টিগত উপকার পাওয়া সম্ভব। বেলের এই সমৃদ্ধ আঁশ অন্ত্রের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে ডা. স্মিতা শ্রীবাস্তবের মতে, শুধুমাত্র কোনো নির্দিষ্ট রোগ নিরাময়ের জন্য বেলের ওপর পুরোপুরি ভরসা করা উচিত নয়। পাকা বেল সরাসরি ফল হিসেবে খাওয়া যেতে পারে অথবা শরবত বানিয়েও খাওয়া চলে। তবে শরবত তৈরির সময় অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। এর সঠিক নিয়ম হলো পাকা বেলফলের শাঁস বের করে জলের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে, তা ছেঁকে পান করা। তবে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়, বেলও অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের বেলের শরবতে মেশানো চিনির ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত। কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকলে ডায়েটে বেল যোগ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।