‘সবটাই মিডিয়ার তৈরি!’ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৩৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসের পরই হিটম্যানের অবসর নিয়ে বড় সত্যিটা ফাঁস গিলের

রবিবার লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় তথা নির্ণায়ক ওডিআই ম্যাচের আগে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে এক তীব্র জল্পনা দানা বেঁধেছিল। বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, এই ম্যাচটিই হতে চলেছে ভারতীয় দলের মহাতারকা ও ওডিআই অধিনায়ক রোহিত শর্মার আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ একদিনের ম্যাচ। তবে সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ মিথ্যে প্রমাণ করে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত জবাব দিলেন ‘হিটম্যান’। লর্ডসের সবুজ উইকেটে চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ১৩৮ রানের একটি অত্যন্ত নান্দনিক ও দায়িত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে তিনি সমালোচকদের মুখ চিরকালের মতো বন্ধ করে দিলেন। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের তরুণ তুর্কি শুভমান গিলও রোহিতের অবসর নিয়ে চলা এই সমস্ত গুজবের তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে খোলসা করে কথা বলেন।
সাংবাদিক বৈঠকে শুভমান গিলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, রোহিত শর্মা নিজের অবসর বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দলের অন্দরে বা খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেছেন কি না। এই প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় গিল বলেন, “রোহিত ভাই আমাদের এমন কিছু বলেননি। ড্রেসিংরুমে এ নিয়ে কথা বলার কোনো সুযোগ বা অবকাশই তৈরি হয়নি। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এই সমস্ত খবরের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই, পুরোটাই মিডিয়ার তৈরি জল্পনা। দলের অন্দরে বা দলের বৈঠকে এই ধরনের কোনো আলোচনাই হয়নি।” গিলের এই স্পষ্টবার্তার পর ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও ঐক্যের ছবিটা আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল। পাশাপাশি, বিসিসিআই (BCCI)-এর সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে, এই ধরণের খবরের কোনো সত্যতা নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, রোহিত শর্মা ভারতীয় ওডিআই দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়মিত সদস্য। যতদিন নির্বাচকদের মূল পরিকল্পনার মধ্যে তিনি থাকবেন, ততদিন তিনি দেশকে সেবা দিয়ে যাবেন। লর্ডসের ওডিআই ম্যাচটি তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়, বরং তাঁর কেরিয়ারের একটি উজ্জ্বল অধ্যায় মাত্র।
এদিন ৩৮৮ রানের এক পাহাড়প্রমাণ বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রোহিত শর্মা যেভাবে ইংল্যান্ডের আগুনে পেস আক্রমণ ও স্পিন বোলিং লাইনআপের মুখোমুখি হন, তা এককথায় ছিল শিক্ষণীয়। মাত্র ১১০ বলে ১৩৮ রানের এক মাস্টারক্লাস ইনিংস উপহার দিয়ে তিনি প্রমাণ করে দিলেন যে বড় ম্যাচের কঠিন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতার বিকল্প কিছু হয় না। রোহিতের এই অসাধারণ ব্যাটিং ইনিংসের ভূয়সী প্রশংসা করে শুভমান গিল আরও বলেন, “আমি বেশির ভাগ সময় নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়িয়ে তাঁকে খুব কাছ থেকে ব্যাট করতে দেখছিলাম। গোটা ইনিংস জুড়ে রোহিত ভাই অসম্ভব শান্ত ও ফোকাসড ছিলেন। পাওয়ারপ্লের সময় আমরা কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, কারণ নতুন বলে বড় শট খেলা কঠিন ছিল। কিন্তু উনি প্রথমে ক্রিজে থিতু হয়ে পিচের চরিত্র বুঝে নেন এবং তারপর মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যে ঠান্ডা মাথায় ৬০-৭০ রান তুলে দলের রানকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁর এই ইনিংসটি ছিল দেখার মতো।”
যদিও ভারতীয় দল এই ম্যাচে ৩৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ২৭ রানে পরাজিত হয় এবং ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের কবজায় করে নেয়, তবুও ম্যাচের পর পরাজয়ের গ্লানি ছাপিয়ে সমস্ত আলো কেড়ে নেয় রোহিতের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও তাঁর রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্স। কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসেও ৩৭ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে ৩৯ বছর বয়সে রোহিত যেভাবে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন, তা বিশ্ব ক্রিকেটে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সবমিলিয়ে, লর্ডসের মহারণে রোহিত শর্মার ব্যাট যেমন একদিকে রেকর্ড বই ওলটপালট করে দিয়েছে, তেমনই অন্যদিকে তাঁর অবসর সংক্রান্ত সমস্ত ভুয়ো জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।