মহম্মদ শামি (Mohammed Shami) কি ফুরিয়ে গিয়েছেন? এই প্রশ্নের উত্তর আজ নিজের দুরন্ত বোলিং দিয়েই দিলেন ভারতের অন্যতম সেরা এই পেসার। রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে কেরিয়ার সেরা স্পেল করলেন তিনি। কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট একাডেমি মাঠে আয়োজিত এই মহারণে এক ইনিংসে ৮টি উইকেট তুলে নিলেন শামি। তাঁর এই বিধ্বংসী বোলিংয়ের সৌজন্যেই প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ২৬ রানের লিড পেল বাংলা।
কেরিয়ার সেরা পারফরম্যান্স: এদিন ২২.১ ওভার বল করে মাত্র ৯০ রান খরচ করে ৮টি উইকেট শিকার করেন শামি। এটি তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে (First-Class Cricket) ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স। এর আগে তাঁর সেরা বোলিং রেকর্ড ছিল ৭/৭৯। শামির এই আগুন ঝরানো বোলিংয়ের সামনে জম্মু ও কাশ্মীরের ব্যাটিং লাইনআপ কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে ওপেনিং জুটি থেকে শুরু করে লেজ ছাঁটা— সবটাই এক হাতে সামলান শামি। প্রতিপক্ষ যখন পারস ডোগরা ও আব্দুল সামাদের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখন শামিই ত্রাতা হয়ে সেই জুটি ভাঙেন।
নির্বাচকদের কড়া বার্তা: গত কয়েক মাস ধরে জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য হয়ে রয়েছেন শামি। বিসিসিআই-এর কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও বাদ পড়েছেন তিনি। কিন্তু এবারের রঞ্জি মরসুমে ৭ ম্যাচে ৩৬টি উইকেট নিয়ে শামি বুঝিয়ে দিলেন, তিনি ফুরিয়ে যাননি। নির্বাচক আরপি সিংয়ের উপস্থিতিতে আগের ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরি করার পর এবার ৮ উইকেট নিয়ে শামি বুঝিয়ে দিলেন, জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার জন্য তিনি পুরোপুরি ফিট এবং ক্ষুধার্ত।
ম্যাচের পরিস্থিতি: বাংলার ৩২৮ রানের জবাবে জম্মু ও কাশ্মীর ৩০২ রানে অলআউট হয়ে যায়। শামির দাপটে বাংলা ২৬ রানের লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে যায় সুদীপ-অভিমন্যুরা। ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের জয়ের জন্য প্রয়োজন ১২৬ রান। দিনের শেষে তারা ২ উইকেট হারিয়ে ৪৩ রান তুলেছে। ম্যাচের ফলাফল যাই হোক, ক্রিকেট মহলে এখন একটাই আলোচনা— শামির এই ‘আট’ ঘা কি জাতীয় দলের দরজা খুলে দেবে?