আইএসএল শুরুর আগে চেনা ছন্দে ফিরছে ইস্টবেঙ্গল। রবিবার প্রস্তুতি ম্যাচে মহামেডান স্পোর্টিংকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। গোল করলেন ডেভিড লালহ্লানসাঙ্গা এবং নন্দকুমার সেকর। তবে জয়ের আনন্দের মাঝেই বড় খবর হলো তারকা উইঙ্গার নাওরেম মহেশ সিং-এর প্রত্যাবর্তন। কোচ অস্কার ব্রুজোঁ জানিয়েছেন, আর মাত্র ২-৩টি ম্যাচের মধ্যেই পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরবেন মহেশ।
এদিন প্রথমার্ধেই নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন ডেভিড। দ্বিতীয়ার্ধে মিগুয়েল ফিগেরার পাস থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান বাড়ান নন্দকুমার। যদিও ম্যাচে উত্তজনা ছড়ায় মহম্মদ রাকিপের চোটকে কেন্দ্র করে। মহামেডানের এক ফুটবলার তাঁকে ইচ্ছাকৃত ফাউল করায় রাকিপের মাথা ফেটে রক্তপাত হয়, যার জেরে লাল কার্ড দেখতে হয় মহামেডান ফুটবলারকে। অস্কার ব্রুজোঁ এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেও জানিয়েছেন, রাকিপের চোট গুরুতর নয়। দলের নতুন স্ট্রাইকার ইউসেফ এজ্জেজারি বা কেভিন সিবিলে এদিন মাঠে না নামলেও, প্রথম ম্যাচের জন্য দল পুরোপুরি প্রস্তুত বলে দাবি কোচের।
এদিকে মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে ভেন্যু বিতর্ক। ১৬ ফেব্রুয়ারি ইস্টবেঙ্গলের প্রথম ম্যাচ কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে হওয়া নিয়ে চূড়ান্ত অসন্তুষ্ট সমর্থকরা। ক্লাব শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার জানিয়েছেন, হাজার হাজার সমর্থক ইমেল করে যুবভারতীতে ম্যাচ করার দাবি জানিয়েছেন। কিশোরভারতীর মাত্র ৬ হাজার দর্শকাসনের কারণে কয়েক হাজার সমর্থক টিকিট পাবেন না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেবব্রতবাবুর দাবি, যুবভারতীতে খেলা হলে অন্তত ৪৫ হাজার দর্শক আসতেন। স্টেডিয়াম থেকে ফেরার ঝক্কি নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে লাল-হলুদ অনুরাগীদের মধ্যে।
একইসঙ্গে ক্লাবের পরিকাঠামো নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন দেবব্রত সরকার। তিনি জানান, এপ্রিলের মধ্যেই ইস্টবেঙ্গল মাঠের বাতিস্তম্ভ সংস্কারের কাজ শেষ হবে। ফলে আগামী মরশুম থেকে কলকাতা লিগ এবং আইডব্লিউএল-এর ম্যাচগুলো নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলতে পারবে ইস্টবেঙ্গল।