বোর্ড পরীক্ষায় বসতে পারবেন না কোনো ‘সূর্যবংশী’! মেধাবী হয়েও কেন এই চরম শাস্তি? জানুন আসল কারণ

রাজস্থানের যোধপুর ও সংলগ্ন অঞ্চলের ‘সূর্যবংশী’ সম্প্রদায়ের কয়েকশো শিক্ষার্থীর বোর্ড পরীক্ষায় বসা নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোনো সরকারি আইনি জটিলতা নয়, বরং তাঁদের নিজ সমাজের মোড়লদের নেওয়া একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তই এর মূলে। সামাজিক এই নিষেধাজ্ঞার জেরে মেধাবী পড়ুয়াদের শিক্ষাজীবন এখন খাদের কিনারায়।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা? অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, সূর্যবংশী সম্প্রদায়ের একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে। সম্প্রদায়ভুক্ত বড়দের একাংশের দাবি, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা তাঁদের আদিম সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুশাসনে আঘাত হানছে। সম্প্রতি একটি সামাজিক সভায় নিদান দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের সন্তানরা যদি বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, তবে সেই পরিবারকে একঘরে বা সমাজচ্যুত (Social Outcast) করা হবে।

পরিবারের অসহায়তা: সমাজচ্যুত হওয়ার ভয়ে অনেক বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। নিয়ম ভাঙলে বিশাল অঙ্কের জরিমানা এবং বিয়ের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ফলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়ারা চোখের জল ফেললেও, সমাজের নিয়মের কাছে তাঁরা এখন বন্দি।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ: বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় শিক্ষা দফতর এবং পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, কোনো সামাজিক গোষ্ঠী বা মোড়ল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকারে বাধা দিতে পারেন না। পুলিশ ইতিমধ্যে কয়েকজন মোড়লকে তলব করেছে এবং পড়ুয়াদের পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক ভীতি কাটিয়ে কতজন পড়ুয়া শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy