টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অভিযান শুরুর ঠিক আগেই বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল ভারতীয় শিবির। হাঁটুর গুরুতর চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন উদীয়মান তরুণ ফাস্ট বোলার হর্ষিত রানা। মুম্বইয়ে ইউএসএ-র বিরুদ্ধে ভারতের উদ্বোধনী ম্যাচের মাত্র একদিন আগে তাঁকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয় টিম ম্যানেজমেন্টকে। পরে জানা যায়, হর্ষিতের হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে, যার ফলে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন আপাতত অধরাই রয়ে গেল।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে নিজের শারীরিক অবস্থার আপডেট নিজেই দিয়েছেন হর্ষিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করে তিনি জানান, তাঁর অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য দ্রুত রিহ্যাব সেরে মাঠে ফেরা। গত সপ্তাহে ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ চলাকালীন মাত্র এক ওভার বল করেই খুঁড়িয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। তখনই তাঁর চোটের গুরুত্ব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত দুঃসংবাদে পরিণত হয়।
হর্ষিতের এই আকস্মিক বিদায়ে ভারতীয় দলে নাটকীয়ভাবে প্রবেশ ঘটে অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ সিরাজের। মজার বিষয় হলো, বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়ায় সিরাজ তখন মানসিক অবসাদ কাটাতে জার্মানি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু দেশের ডাক আসতেই ব্যাগ গুছিয়ে তিনি যোগ দেন শিবিরে এবং প্রথম ম্যাচেই নিজের জাত চেনান।
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইউএসএ-র বিরুদ্ধে ১৬১ রান রক্ষা করতে নেমে সিরাজ হয়ে ওঠেন অদম্য। ৪ ওভারে ৩টি মহামূল্যবান উইকেট নিয়ে ভারতের ২৯ রানের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন তিনি। ম্যাচের পর আবেগপ্রবণ সিরাজ বলেন, “মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আমার জীবন ও ভাগ্য বদলে গেল।” নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী টিম ইন্ডিয়া এবার কলম্বোর পথে, যেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মেগা লড়াইয়ে নামবেন রোহিত-সিরাজরা।