বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায়, পদত্যাগ করলেন পর্তুগালের কোচ মার্টিনেজ!

স্পেনের কাছে হেরে চলতি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পরেই পর্তুগালের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন রবার্তো মার্টিনেজ। ২০২৩ সালে পর্তুগাল দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর শেষ ম্যাচ। বিশ্বকাপের পরেই তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আগেই তিনি নিজেই সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন।

তবে এই প্রস্থানকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখছেন না মার্টিনেজ। ম্যাচ শেষে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি ৪৫টি ম্যাচে দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। পর্তুগাল আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছে, তা আজীবন আমার হৃদয়ে থাকবে। আমি মনে করি না আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমরা একটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি। একটি ম্যাচে হার মানেই দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স ব্যর্থতা নয়।”

মার্টিনেজের মতে, পর্তুগাল এবারের বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য প্রতিভা ও মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম এবং শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত সেই চেষ্টাই করেছি। যখন জেতার প্রচেষ্টা থাকে, তখন হারকেও সম্মান জানাতে হয়।”

এদিকে, স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে রাখা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে কঠোর অবস্থানে কোচ মার্টিনেজ। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, দলের প্রয়োজন ছিল গোল, আর গোল করার সক্ষমতা রোনাল্ডোর মতো খেলোয়াড়ের কাছ থেকেই আশা করা স্বাভাবিক। মার্টিনেজের কথায়, “যখন আপনার দল গোল পাচ্ছে না, তখন এমন পরিস্থিতিতে আপনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মতো গোলমেশিনকে মাঠ থেকে তুলে নিতে পারেন না। তিনি ৯০ মিনিট অনায়াসেই খেলতে পারেন এবং সেই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।”

কোচ হিসেবে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত মার্টিনেজ। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক ছিন্ন করার পর আপাতত পর্তুগালের ডাগআউটে নতুন যুগের অপেক্ষায় ফুটবল ভক্তরা।