ফুটবলবিশ্বের বড় ধাক্কা! মেসি-রোনাল্ডো দ্বৈরথ কি তবে অধরাই থাকবে? কী বলছে ২০২৬ বিশ্বকাপের অঙ্ক?

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নক-আউটের নকশা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এমনভাবে বদলে গেল যে, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর বহু প্রতীক্ষিত এক স্বপ্ন কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেল। গত কয়েকদিন ধরে ফুটবলবিশ্বের অলিগলিতে একটাই হিসাব চলছিল—কোয়ার্টার ফাইনালেই কি মুখোমুখি হবেন লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো? গত দুই দশক ধরে ফুটবল শাসন করা এই দুই মহাতারকাকে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবারের মতো লড়াই করতে দেখার আশায় প্রহর গুনছিল গোটা বিশ্ব। কিন্তু কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে পর্তুগালের গোলশূন্য ড্র সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াল।
বিশ্বকাপের নক-আউট ড্রয়ের সরল হিসাব ছিল—যদি পর্তুগাল তাদের গ্রুপ ‘কে’-তে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারত, তবে গ্রুপ ‘জে’ জয়ী আর্জেন্টিনার সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালেই তাঁদের দেখা হতো। কিন্তু মায়ামিতে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করায় রোনাল্ডোদের গ্রুপ রানার্স-আপ হিসেবে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। ফলে তাঁরা নক-আউটের সম্পূর্ণ বিপরীত ব্র্যাকেটে চলে গেলেন। এর ফলে মেসি বনাম রোনাল্ডোর সেই বহুল প্রতীক্ষিত ‘লাস্ট ডান্স’ বা শেষ যুদ্ধ কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চ থেকে মুছে গেল।
একসময়ের বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের ‘এল ক্লাসিকো’ থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ—অগণিত লড়াইয়ের সাক্ষী থেকেছে ফুটবলপ্রেমীরা। বিশ্বকাপে তাঁদের আরও একবার মুখোমুখি দেখার অপেক্ষায় ছিল বিশ্ব। যদিও বয়স তাঁদের ছুঁতে পারেনি। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি জর্ডনের বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে নেমে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তিনি ফুটবলের জাদুকর। টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে তিনি গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড। অন্যদিকে, রোনাল্ডো এখনও পর্তুগালের মূল চালিকাশক্তি। তবে কলম্বিয়ার জমাট রক্ষণের সামনে তাঁকে গত ম্যাচে কিছুটা নিষ্প্রভ দেখালেও, তাঁর অভিজ্ঞতার ওপর এখনও ভরসা রাখছেন সমর্থকরা।
এখন দুই দলের সামনেই কঠিন রাস্তা। আর্জেন্টিনা শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে নামবে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, পর্তুগালের প্রথম নক-আউট বাধা ২০১৮ সালের রানার্স-আপ ক্রোয়েশিয়া। সেই বাধা টপকালে রোনাল্ডোদের জন্য অপেক্ষা করছে স্পেনের মতো শক্তিশালী দল। নক-আউটের এই ব্র্যাকেটে রোনাল্ডোদের যাত্রা অনেকটাই দুর্গম।
তাহলে কি মেসি-রোনাল্ডোর লড়াই আর কখনোই দেখা যাবে না? এই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন একটাই সমীকরণ বাকি—দুই দলকেই নিজেদের ব্র্যাকেট থেকে প্রতিটি ম্যাচ জিতে সোজা ফাইনালে উঠতে হবে। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন ও মহাকাব্যিক দ্বৈরথ হিসেবে যদি মেসি ও রোনাল্ডো ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হন, তবে তা হবে ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা প্রাপ্তি।
তবে বাস্তব বলছে, পথটা অত্যন্ত কঠিন। বয়স, প্রতিপক্ষের প্রবল শক্তি এবং নক-আউটের প্রচণ্ড মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে দুই দলকেই একাধিক অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে। সম্ভবত এটাই তাঁদের শেষ বিশ্বকাপ। ২০৩০ সালে তাঁদের ফের বিশ্বকাপে দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শূন্য। তাই ফুটবলপ্রেমীদের সমস্ত প্রার্থনা এখন একটাই—নিয়তি যেন এই রূপকথাকে সত্যি হতে দেয়। বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চে শেষবারের মতো যেন এক ফ্রেমে দেখা যায় দুই রাজাকে। সেই লড়াইয়ের চেয়ে বড় কোনো মহাকাব্য আর হতে পারে না।