‘পাকিস্তানির হাত থেকে নয়!’ ট্রফি বিতর্কে বিসিসিআই সচিবের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় ক্রিকেট দুনিয়া!

শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে পরাজিত করে হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল রেকর্ড অষ্টমবারের জন্য এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। তবে এই ঐতিহাসিক জয়েও মাঠের ভেতরের কৃতিত্বের চেয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া তুমুল বিতর্ক এখন বিশ্বজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পুরুষ দলের পথ অনুসরণ করে এশিয়া কাপের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেও ভারতীয় মহিলা দল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রধান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানায়। টুর্নামেন্টের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ভারতীয় খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি এবং মাঠের উত্তপ্ত পরিস্থিতির আসল কারণ অবশেষে খোলসা করেছেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।

বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার পেছনে বোর্ডের সুচিন্তিত কৌশল ও দেশের আত্মসম্মানের প্রশ্ন জড়িত ছিল। নকভির হাত এড়াতে ভারতীয় বোর্ডের পক্ষ থেকে দুটি স্পষ্ট বিকল্প প্রস্তাব রাখা হয়েছিল—প্রথমত, নকভির পরিবর্তে অন্য কোনো এসিই সহ-সভাপতির হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করা অথবা চ্যাম্পিয়ন দলের কোনো বোর্ড কর্মকর্তার হাত থেকে ট্রফি তুলে দেওয়া। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান সেই সমস্ত প্রস্তাবই সরাসরি খারিজ করে দেন এবং নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। এরপরই দেশের মানুষের সম্মানের কথা মাথায় রেখে এবং পাকিস্তানির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থেকে ভারতীয় মহিলা দল পুরস্কার মঞ্চ বয়কটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

এই ঘটনার জল যে বহুদূর গড়িয়েছে, তার প্রমাণ মিলেছে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডের গ্যালারিতেও। মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার ভারতীয় সমর্থক মহসিন নকভির উপস্থিতিতে তাঁকে লক্ষ্য করে তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করেন। গ্যালারি কাঁপিয়ে গর্জে ওঠে ‘ট্রফি চোর’ স্লোগান, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও পুরুষ দলের এশিয়া কাপ জয়ের সময়ও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, যেখানে পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা পিসিবি প্রধানের হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করেছিল টিম ইন্ডিয়া। বারবার এই ধরনের কূটনৈতিক ও ক্রীড়াগত সংঘাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে, যেখানে খেলোয়াড়দের অনবদ্য ক্রীড়ানৈপুণ্যের চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বয়কটের গল্পই এখন প্রধান শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে।