‘পরিস্থিতি আরও ভালোভাবেই সামলানো যেত!’ কোহলির অবসর ঘিরে নির্বাচকদের কাঠগড়ায় তুললেন প্রাক্তন ওপেনার

ভারতীয় ক্রিকেটের মহাতারকা বিরাট কোহলির টেস্ট ক্রিকেট থেকে হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন জাতীয় দলের প্রাক্তন ওপেনার তথা প্রবীণ ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফর। তাঁর স্পষ্ট অভিমত, লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার প্রাক্কালে কোহলি যেভাবে ইংল্যান্ড সফরের জন্য কঠোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, গোটা পরিস্থিতিটি তার চেয়ে অনেক বেশি পেশাদার ও মসৃণভাবে সামলানো যেত।

নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে এক বিস্তারিত আলোচনায় জাফর বলেন, যেভাবে পুরো ঘটনার মোকাবিলা করা হয়েছিল, তাতে খোদ বিরাটের মনে এক ধরনের তিক্ততা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাঁর মতে, কোহলির মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটার কেবল একটি দলের অমূল্য সম্পদ বা স্তম্ভই নন, তিনি বিশ্বজুড়ে স্টেডিয়ামে দর্শক টানারও অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তাই যথাযথ সম্মান ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর আরও বেশ কিছুদিন টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ সম্ভব ছিল। তবে এই আকস্মিক অবসরের নেপথ্যের আসল সত্যিটা জানতে কোহলির নিজের মুখেই পুরো বিষয়টি শোনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দিল্লির হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে মাঠে নেমেছিলেন কোহলি। সেই সময় থেকেই তাঁর টেস্ট ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। এরপর ইংল্যান্ড সফরে দলের হয়ে মাঠে নামার জন্য তিনি পুরোদমে প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন সূত্র ও মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে জাতীয় নির্বাচকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই পাশা সম্পূর্ণ উল্টে যায়। আসন্ন ইংল্যান্ড সফরে নতুন নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে একাদশে জায়গা নিশ্চিত করার কঠোর বার্তা কোহলিকে দেওয়া হয়েছিল বলে খবর চাউর হয়।

ঠিক এই ঘটনার পরেই দলের সঙ্গে আর দূরত্ব না বাড়িয়ে ইংল্যান্ড সফরে না যাওয়ার অনড় সিদ্ধান্ত নেন কোহলি। বোর্ডের শীর্ষকর্তারা তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য দফায় দফায় অনুরোধ করলেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল থাকেন। শেষ পর্যন্ত সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ২০২৫ সালের ১২ মে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট থেকে চিরতরে অবসরের ঘোষণা করেন ভারতের প্রাক্তন সফলতম অধিনায়ক। ১৪ বছরের বর্ণাঢ্য টেস্ট কেরিয়ারে ১২৩টি ম্যাচ খেলে ৯,২৩০ রান সংগ্রহ করেছেন কোহলি, যার মধ্যে রয়েছে ৩০টি চোখধাঁধানো শতরান। তাঁর এই রূপকথার সমাপ্তি ভারতীয় ক্রিকেটে একটি বিরাট যুগের অবসান ঘটিয়েছে।

নির্বাচকদের সমালোচনা করে জাফর আরও বলেন, ভারতীয় ক্রিকেটে সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কিছু সাহসী ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ সফল হলেও বহু ক্ষেত্রে ক্রিকেটার এবং কোটি কোটি ভক্তদের মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি করেছে। লাল বলের ক্রিকেটে ভারতের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার জন্য সরাসরি নির্বাচকদের এককভাবে দায়ী করা ঠিক না হলেও, দল নির্বাচন এবং যোগাযোগের মাধ্যম আরও উন্নত হওয়া উচিত ছিল। সাদা বলের ক্রিকেটে দল ভালো খেললেও টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সব মিলিয়ে, কোহলির মতো বিশ্বমানের ক্রিকেটারের প্রস্থান পর্ব যে আরও সম্মানের হতে পারত, সেই বার্তাটিই জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন ওয়াসিম জাফর।