আইনজীবী নিগ্রহের ঘটনায় বড় মোড়! আদালতগুলির নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নির্দেশিকা জারির পথে প্রধান বিচারপতি

রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন আদালত চত্বরে একের পর এক হামলা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের হেনস্থা এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রাজ্যের সমস্ত আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বারুইপুর আদালত, কলকাতার ব্যাংকশাল আদালত, চন্দননগর আদালত এবং বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনার জেরে বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত।
আদালতের সুরক্ষাব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে এবার বার অ্যাসোসিয়েশন এবং প্রতিটি জেলার জজদের কাছে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। ওই চিঠিতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, আইনজীবী সহ আদালত চত্বরে প্রবেশকারী প্রতিটি ব্যক্তিকে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে তবেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হোক। তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বার কাউন্সিল এবং বার অ্যাসোসিয়েশনগুলি নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে এই বিষয়ে পারস্পরিক সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিতভাবে তা জানালে তবেই আদালত চত্বরে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারের চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় আইনজীবীদের পূর্ণ সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি বলে আদালত মনে করছে।
পাশাপাশি, আদালত চত্বরের পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সমস্ত আদালতের চত্বরে বিড়ি, সিগারেট, পান এবং গুটখা সেবন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার জোরালো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বিচারপতির এই প্রস্তাবের বিপরীতে এজলাসে উপস্থিত কিছু আইনজীবী আদালত চত্বরে নির্দিষ্ট ‘স্মোকিং জোন’ তৈরি করার আর্জি জানিয়েছেন।
এদিনের শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে যে, রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে ইতিমধ্য়েই আইনজীবীদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং আদালত চত্বরের নিরাপত্তা যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ব্যাংকশাল কোর্ট ও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাসভবনে হামলার ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ করেছে। তবে বারুইপুর আদালতে আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গায়ে ডিম ছোড়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিষয়ে ফের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।