“নিজের থেকে সরেননি, ধোনিকে বাধ্য করা হয়েছিল!” ৯ বছর পর বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন তৎকালীন নির্বাচক, তোলপাড় ক্রিকেট মহল

ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের সবথেকে সফল অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni) কেন হঠাৎ ২০১৭ সালের শুরুতে সীমিত ওভারের নেতৃত্ব ছেড়েছিলেন? দীর্ঘ ৯ বছর পর সেই রহস্যের ওপর থেকে পর্দা সরালেন তৎকালীন জাতীয় নির্বাচক যতীন পারাঞ্জপে। তাঁর দাবি, ধোনি নিজে থেকে সরে যাননি, বরং বিসিসিআই (BCCI) এবং নির্বাচক মণ্ডলীই তাঁকে সরে দাঁড়ানোর জন্য ‘অনুরোধ’ বা পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করেছিল।

ভবিষ্যতের দোহাই দিয়ে ‘কঠিন’ সিদ্ধান্ত: যতীন পারাঞ্জপে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের সেই মুহূর্তটি ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাঁর দাবি অনুযায়ী:

  • নির্বাচকরা চেয়েছিলেন ২০১৯ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে বিরাট কোহলিকে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দিতে।

  • ধোনিকে জানানো হয়েছিল যে, অধিনায়ক হিসেবে নয়, বরং একজন উইকেটকিপার-ব্যাটার ও মেন্টর হিসেবেই তাঁকে আগামী দিনে দেখছে দল।

  • এই সিদ্ধান্তের ফলে তখন ক্রিকেট বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, কিন্তু নির্বাচকরা তাঁদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন।

সমালোচনার মুখেও অবিচল নির্বাচকরা: পারাঞ্জপে সাফ জানিয়েছেন, “নির্বাচকদের অনেক সময় নিষ্ঠুর ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমরা জানতাম ধোনি ভক্তরা আমাদের ছেড়ে কথা বলবে না, তবুও ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আমরা সেই ঝুঁকি নিয়েছিলাম।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ধোনি অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে বিরাট কোহলিকে যোগ্য গাইড হিসেবে সাহায্য করে গেছেন।

কোহলি-ধোনি সমীকরণ: এই সিদ্ধান্তের পরই ভারতীয় ক্রিকেটে ‘বিরাট যুগ’ শুরু হয়। যদিও মাঠের ভেতরে ধোনির সেই ‘ক্যাপ্টেন কুল’ মস্তিষ্ক কোহলিকে বারবার বিপদমুক্ত করেছে। পারাঞ্জপের এই বিস্ফোরক দাবি প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে ভারতীয় ক্রিকেটের ক্ষমতার পালাবদল ততটা সহজ ছিল না যতটা বাইরে থেকে মনে হয়েছিল।

এডিটরের নোট: ধোনির মতো একজন কিংবদন্তিকে কি সত্যিই এভাবে সরে যেতে অনুরোধ করা উচিত ছিল? নাকি বোর্ড আরও কিছুটা সম্মানজনক বিদায়ের পথ বেছে নিতে পারত? আপনার কী মত? কমেন্ট বক্সে জানান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy