টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিপর্যয়ের পর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে যখন ভাঙনের সুর, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে এক নাটকীয় পরিবর্তন এল। সোমবার ৯ মার্চ ২০২৬, কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য। সদ্য প্রাক্তন হওয়া কোচ সনাথ জয়াসুরিয়া এবং দায়িত্ব নিতে চলা গ্যারি কার্স্টেনকে দীর্ঘক্ষণ হাসিমুখে আলোচনা করতে দেখা গেল। ক্রিকেট মহলের খবর, পর্দার আড়ালে থাকা দীর্ঘদিনের ‘মন কষাকষি’ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে লঙ্কান ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে।
২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কা ছিল দুই মেরুতে। কার্স্টেন ছিলেন ভারতের কোচ, আর জয়াসুরিয়া ছিলেন লঙ্কান ক্রিকেটের অন্যতম স্তম্ভ। পরবর্তীকালে কোচিং ও প্রশাসনিক নানা বিষয়ে তাঁদের মধ্যে পেশাদারী মতবিরোধের কথা শোনা যেত। কিন্তু ভারতের সূর্যকুমার যাদবদের বর্তমান সাফল্যের গ্রাফ দেখে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড যখন কার্স্টেনকে প্রস্তাব দেয়, তখন স্বয়ং জয়াসুরিয়া সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি জানান। জয়াসুরিয়া নিজে পদত্যাগ করলেও তিনি থাকছেন হাই-পারফরম্যান্স সেন্টারের ডিরেক্টর হিসেবে, যার ফলে কার্স্টেনের সাথে তাঁকে নিয়মিত কাজ করতে হবে।
এই দুই মহারথীর এক হওয়াকে লঙ্কান ক্রিকেটের ‘নবজন্ম’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কার্স্টেন তাঁর টেকনিক্যাল জ্ঞান এবং জয়াসুরিয়া তাঁর স্থানীয় অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বীপরাষ্ট্রের ক্রিকেটকে আবার অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরাতে চান। মাঠের লড়াই আর ব্যক্তিগত ইগো ভুলে প্রথম বিশ্বজয়ের দুই নায়কের এই আলিঙ্গন এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। লঙ্কান ভক্তদের আশা, এই যুগলবন্দি ২০২৭ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে আবার বিশ্বসেরার সিংহাসনে বসাতে সাহায্য করবে।