বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তান ক্রিকেটের চেনা ট্র্যাজেডি আবারও ফিরে এল। এক দিকে ব্যক্তিগত রেকর্ডের ঝকঝকে রোশনাই, আর অন্য দিকে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার চরম হতাশা—এই দুইয়ের মাঝেই শেষ হলো পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান। যদিও এবারের ম্যাচে শিরোনাম কেড়ে নিলেন তরুণ তুর্কি ফারহান। বিরাট কোহলির এক অনন্য রেকর্ড ভেঙে দিয়ে তিনি ক্রিকেট বিশ্বের নজর কাড়লেও, দলকে শেষ চারে তুলতে ব্যর্থ হলেন তিনি।
মরণ-বাঁচন ম্যাচে ফারহানের ব্যাট থেকে এল এক অতিমানবীয় ইনিংস। এই ইনিংস খেলার পথেই তিনি টপকে গেলেন কিংবদন্তি বিরাট কোহলির গড়া বিশ্বকাপের বিশেষ এক নজির। কিন্তু ক্রিকেটের ব্যাকরণ বলে, ব্যক্তিগত রেকর্ড দিয়ে আর যাই হোক, টুর্নামেন্ট জেতা যায় না। পাকিস্তানের বোলিং এবং ফিল্ডিং বিভাগের ব্যর্থতা ফারহানের লড়াইকে ম্লান করে দিল। হার দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করায় বাবর আজমদের রণকৌশল নিয়ে আবারও উঠছে একরাশ প্রশ্ন।
পাক-বিদায়ের সঙ্গেই একটি বড় জট খুলে গেল ইডেন গার্ডেন্সে। পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার ফলে প্রথম সেমিফাইনাল আয়োজনের বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ নিশ্চিত। কলকাতার ক্রিকেট প্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন ইডেনের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের জন্য। আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, পাকিস্তান সেমিতে উঠলে সূচিতে কিছু রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু এখন সেই মেঘ কেটে গেছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে ফারহানের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কোহলির রেকর্ড ভেঙে তিনি কি আগামীর মহাতারকা হওয়ার বার্তা দিলেন? নাকি পাকিস্তানের এই ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হবে পুরো দলকেই? আপাতত চোখের জলেই বিশ্বকাপকে বিদায় জানাতে হচ্ছে সবুজ বাহিনীকে।