কলকাতার ফুটবলে নতুন ভোর, সল্টলেক GD গ্রাউন্ডে UKSC অ্যাকাডেমির উদ্বোধন, লক্ষ্য জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় তৈরি

ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব (UKSC) অ্যাকাডেমি সম্প্রতি কলকাতার সল্টলেক জিডি গ্রাউন্ডে ৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী তরুণদের জন্য এক তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবল প্রোগ্রামের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ঘোষণা করেছে। টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ইউকেএসসি অ্যাকাডেমিকে কলকাতার একটি প্রগতিশীল যুব ফুটবল প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল একটি জমকালো ফুটবল উৎসব, যেখানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, বিধাননগর পৌর কর্পোরেশনের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং, এবং টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সত্যম রায় চৌধুরি সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এই অনুষ্ঠানে কোচদের হাতে কন্যাশ্রী কাপ প্রিমিয়ার বি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সহ ক্লাবের অর্জিত একাধিক ট্রফিও তুলে দেওয়া হয়।
উন্নত প্রশিক্ষণের বিশেষত্ব:
এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক উন্নয়ন কাঠামো, যা প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, কৌশলগত শিক্ষা, শারীরিক ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা এবং চরিত্র বিকাশের উপর জোর দেয়।
ফাইভ কর্নার ডেভেলপমেন্ট মডেল: পাঠ্যক্রমটি প্রযুক্তিগত, কৌশলগত, শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক—এই পাঁচটি দিককে অন্তর্ভুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে।
এএফসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোচিং: ভারতের সর্বকনিষ্ঠ এএফসি প্রো লাইসেন্স কোচদের মধ্যে অন্যতম ইয়ান ল সহ এএফসি এবং এআইএফএফ-লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোচদের তত্ত্বাবধানে সপ্তাহে ২-৩টি সেশন থাকবে।
অনুপাত: ব্যক্তিগত মনোযোগ নিশ্চিত করতে কোচ-টু-প্লেয়ারের অনুপাত থাকবে ১:১৫।
রাজ্যজুড়ে ফুটবল হাব তৈরির লক্ষ্য:
ইউকেএসসি অ্যাকাডেমির লক্ষ্য হলো পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে একটি বিশাল ফুটবল হাব তৈরি করা। টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের স্কুল, কলেজ এবং কমিউনিটি সেন্টারের বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে মালদা, দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি, কোচবিহার সহ ৬টি জেলায় ইতিমধ্যেই ৩৫০-র বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে অ্যাকাডেমিটি দ্রুত প্রসার লাভ করছে। শিলিগুড়িতে একটি মেয়েদের আবাসিক ফুটবল প্রোগ্রামও চালু করার প্রস্তুতি চলছে।
দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ডিরেক্টর দেবদূত রায় চৌধুরি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল রাজ্য জুড়ে তৃণমূল পর্যায়ের খেলাধুলোয় গতি আনা। এটি কেবল একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির চেয়েও বেশি কিছু; এটি একটি ব্যাপক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ।”