ক্রিকেট সত্যিই বড় নিষ্ঠুর। ৩৯৮ বলের লড়াই, গোটা ইনিংসে কোনো ভুল নেই, অথচ ৩৯৯ নম্বর বলটাই কেড়ে নিল ইতিহাস ছোঁয়ার সুযোগ। অন্ধ্রপ্রদেশের বিপক্ষে রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে ২৯৯ রানে বোল্ড হয়ে ফিরলেন সুদীপ ঘরামী। মাত্র ১ রানের জন্য দেবাং গান্ধী এবং মনোজ তিওয়ারির পর বাংলার তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করা হলো না তাঁর। তবে সুদীপের এই ম্যারাথন ইনিংসে ভর করেই বাংলার স্কোর দাঁড়িয়েছে ৬২৯ রান। ৩৩৪ রানের বিশাল লিড নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট একপ্রকার নিশ্চিত করে ফেলল বাংলা।
এক বলের ছোবলে ট্র্যাজেডি: কল্যাণীর মাঠে যখন রশিদের বলটা নিচু হয়ে সুদীপের উইকেটে লাগল, তখন গোটা স্টেডিয়াম স্তব্ধ। রঞ্জির নক-আউট পর্বে ৩০০ রান করা এক অনন্য কৃতিত্ব, যা সুদীপের ব্যাটে প্রায় নিশ্চিত ছিল। বাংলার প্রাক্তন রঞ্জিজয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বললেন, “অসাধারণ ইনিংস, কিন্তু ওই ১ রানের আক্ষেপ সারাজীবন থাকবে। লেগস্পিনারের বিরুদ্ধে ব্যাকফুটে না গেলেই ৩০০টা হয়ে যেত।”
রেকর্ড ভাঙা ইনিংস ও শামির ধামাকা: সুদীপ শুধু নিজের কেরিয়ারের সেরা ১৮৬ রানের (ঝাড়খণ্ডের বিপক্ষে) রেকর্ডই ভাঙেননি, বরং অন্ধ্রপ্রদেশের বোলারদের শাসন করে বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তিনি বাংলার ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ। সুদীপের পাশাপাশি শেষবেলায় ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মহম্মদ শামি। মাত্র ৩৩ বলে ৫৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে হাবিব গান্ধী ৯৫ রানে আউট হয়ে সেঞ্চুরি মিস করলেও বাংলার বড় স্কোর নিশ্চিত করে দেন।
লক্ষ্য এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া: বাংলার ঝুলিতে মাত্র একটি রঞ্জি ট্রফি। দীর্ঘদিনের সেই খরা কাটাতে এবার বদ্ধপরিকর অনুষ্টুপ-আকাশ দীপরা। কোয়ার্টার ফাইনালে সুদীপের এই ‘চান্সলেস’ ২৯৯ রান কি বাংলাকে বহু প্রতীক্ষিত রঞ্জি ট্রফির স্বাদ দেবে? উত্তরটা সময়ের গর্ভে, তবে কল্যাণীর মাঠে সুদীপের এই লড়াই ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবে।