একদিকে যখন হরমনপ্রীত-মন্ধনাদের বিশ্বজয়ের রেশ কাটেনি, ঠিক তখনই কর্মকর্তাদের অব্যবস্থার কারণে মুখ পুড়ল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (CAB)। মাঠ তৈরি না-থাকায় শেষ মুহূর্তে বিসিসিআই অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা ক্রিকেটের (ওয়ান-ডে) জোড়া ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন করতে হলো। এই ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন সিএবি-র যুগ্মসচিব মদনমোহন ঘোষ। তাঁর নড়বড়ে পারফরম্যান্সে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা।
ঘটনাটি ঠিক কী: নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিসিসিআই অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা ক্রিকেটের দু’টি ম্যাচ (উত্তরপ্রদেশ বনাম দিল্লি এবং অন্ধ্রপ্রদেশ বনাম রাজস্থান) বৃহস্পতিবার দেশবন্ধু পার্কের মাঠে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ বুধবার মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে বিসিসিআইয়ের ম্যাচ রেফারি এবং আম্পায়াররা দেখেন যে, মাঠ এবং পিচ কোনোটিই প্রস্তুত নয়। দেশবন্ধু পার্কের মাঠে ম্যাচ আয়োজন সম্ভব নয় বলে তাঁরা সরাসরি বোর্ডে অভিযোগ জানান।
জাতীয় নির্বাচক ও প্রাক্তন ক্রিকেটার আবেই কুরুভিল্লা, যিনি বর্তমানে বিসিসিআই জেনারেল ম্যানেজার (ক্রিকেট অপারেশনস) পদে রয়েছেন, তাঁর কাছেই অভিযোগ যায়। সূত্রের খবর, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সিএবি-কে একটি মেইল পাঠিয়ে জবাবদিহি চেয়েছেন।
সিএবি-র দুলকি চাল: এমতাবস্থায় সিএবি কর্তাদের হাতে বিকল্প মাঠ ছিল না। কারণ বৃহস্পতিবার থেকেই সিএবি পরিচালিত ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ শুরু হয়েছে। ফলে ইডেন, যাদবপুর বা ভিডিয়োকনের মাঠ, কোনোটিই খালি ছিল না। শেষপর্যন্ত বারাসতের আদিত্য অ্যাকাডেমির মাঠে বোর্ডের জোড়া ম্যাচ সরিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে সিএবি-কে।
সিএবি সূত্রে খবর, মাঠ পরিদর্শনের দায়িত্বে গ্রাউন্ডস কমিটি থাকলেও পুরো বিষয়টি ছিল যুগ্মসচিব মদনমোহন ঘোষের এক্তিয়ারভুক্ত। অভিযোগ, যুগ্মসচিব গ্রাউন্ডস কমিটির সচিব অমিতাভ আড্ডিকে জানিয়েছিলেন যে মাঠ পরিদর্শনে যাওয়ার দরকার নেই, মাঠ সম্পূর্ণ তৈরি। আর সেখানেই ঘটে বিপত্তি। এই অব্যবস্থার জেরে বোর্ডের ম্যাচের স্থান বদলে অস্বস্তিতে সিএবি।
উল্লেখ্য, আগামী ৮ নভেম্বর সিএবি-র পক্ষ থেকে বিশ্বজয়ী দলের সদস্য রিচা ঘোষকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।