রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার অপ্রতিরোধ্য দৌড় অব্যাহত। কল্যাণীর বাইশ গজে অন্ধ্র প্রদেশকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল অভিমন্যু ঈশ্বরণের দল। কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ দিনে প্রতিপক্ষকে ইনিংস ও ৯০ রানে হারিয়ে রাজকীয় মেজাজে শেষ চারে জায়গা করে নিল বঙ্গ ব্রিগেড। আর এই জয়ের নেপথ্যে থাকল সুদীপ ঘরামির এক অতিমানবিক ব্যাটিং প্রদর্শনী এবং শাহবাজ আহমেদের বিষাক্ত স্পিন।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল বাংলার। প্রথম ইনিংসে অন্ধ্র প্রদেশের ২৯৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলা পাহাড়প্রমাণ ৬২৯ রান খাড়া করে। সৌজন্যে তরুণ তুর্কি সুদীপ ঘরামি। মাত্র ১ রানের জন্য ট্রিপল সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও, ৫৯৬ বলে ২৯৯ রানের ইনিংসটি ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। টানা ৯৩০ মিনিট ক্রিজে থেকে তিনি অন্ধ্র বোলারদের ধৈর্য পরীক্ষা নেন। সুদীপের এই ম্যারাথন ইনিংসই বাংলার সরাসরি জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল।
সোমবার দিনের শেষে অন্ধ্রর স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৬৪। মঙ্গলবার বাকি ৭টি উইকেট তুলে নিতে খুব বেশি সময় নেননি বাংলার বোলাররা। অন্ধ্র অধিনায়ক নীতীশ কুমার রেড্ডি (৯০) একা লড়াই চালালেও শাহবাজ আহমেদের স্পিন আক্রমণের সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করে বাকি ব্যাটাররা। শাহবাজ ৭২ রান দিয়ে তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এছাড়া সূরজ সিন্ধু জয়সওয়াল নেন ২টি উইকেট। শেষ পর্যন্ত অন্ধ্রর দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৪৪ রানে।
প্রথম ইনিংসে বাংলার পেস বিভাগও ছিল অনবদ্য। মুকেশ কুমার ৬৬ রানে ৫ উইকেট এবং আকাশদীপ ৭৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অন্ধ্রের কোমর ভেঙে দিয়েছিলেন। ব্যাটিং এবং বোলিং— দুই বিভাগেই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে দু’মরসুম পর ফের রঞ্জির সেমিফাইনালে পা রাখল বাংলা। ২০২২-২৩ মরসুমে শেষবার সেমিতে উঠেছিল মনোজ তিওয়ারির বাংলা। এরপর গত দু’টি মরসুম হতাশাজনক কাটলেও ২০২৬-এ ফের চেনা ছন্দে দেখা যাচ্ছে অভিমন্যুদের।
এবারের মরসুমে বাংলার রেকর্ড ঈর্ষণীয়। গ্রুপ পর্বে উত্তরাখণ্ড, গুজরাট, রেলওয়েজ, সার্ভিসেস এবং হরিয়ানাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নক-আউটে উঠেছিল তারা। ৭ ম্যাচের ৫টিতে জয় এবং ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে বাংলা এখন দেশের সেরা দল হওয়ার দাবিদার। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলার প্রতিপক্ষ এখন পরশ ডোগরাদের জম্মু-কাশ্মীর। কল্যাণীর এই বিধ্বংসী মেজাজ ধরে রাখতে পারলে ট্রফি জয়ের খরা এবার কাটবে বলেই আশাবাদী বাংলার ক্রিকেট মহল।