সময় বড় অদ্ভুত! একসময় যাঁর শট সিলেকশন এবং ধারাবাহিকতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করতে পিছপা হতেন না কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকার, আজ সেই ‘লিটল মাস্টার’-এর কণ্ঠেই শোনা যাচ্ছে সঞ্জু স্যামসনের জয়গান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সঞ্জুর বিধ্বংসী ৮৯ রানের ইনিংস দেখে মুগ্ধ গাভাসকার। ধারাভাষ্য চলাকালীন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সঞ্জু স্যামসন বর্তমানে “অন্য গ্রহের ক্রিকেটার”।
সমালোচনার অতীত: আইপিএল হোক বা জাতীয় দল, সঞ্জু স্যামসন যখনই খারাপ শট খেলে আউট হতেন, গাভাসকার বরাবরই তাঁর কড়া সমালোচনা করতেন। সানি বলতেন, “সঞ্জুর মতো প্রতিভাশীল ক্রিকেটারের উচিত নিজের উইকেটের গুরুত্ব বোঝা। এমন শট খেলে আউট হওয়া অপরাধ।” গত কয়েক বছর ধরে সঞ্জুর ‘অস্থিরমতি’ ব্যাটিং নিয়ে গাভাসকারের এই কঠোর মন্তব্য ভক্তদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
সুনীল গাভাসকারের ভোলবদল: কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে সঞ্জু যেন এক নতুন অবতারে অবতীর্ণ হয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে তাঁর ধীরস্থির শুরু এবং তারপর গিয়ার বদলে বোলারদের মাঠের বাইরে পাঠানো দেখে অভিভূত গাভাসকার। তিনি বলেন, “আমি স্বীকার করছি, সঞ্জু এখন অনেক পরিণত। ওর টাইমিং এবং পাওয়ার হিটিং এখন অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ও যেভাবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ব্যাট করছে, তাতে মনে হচ্ছে ও অন্য কোনো গ্রহ থেকে এসেছে।”
রেকর্ড গড়া ইনিংস: সঞ্জুর ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংসটি ভারতকে ফাইনালে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গাভাসকারের মতো সমালোচকদের মুখও বন্ধ করে দিয়েছে। গাভাসকার আরও যোগ করেন যে, সঞ্জু এখন ভারতের মিডল অর্ডারের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছেন এবং তাঁর এই ফর্ম বজায় থাকলে ভারতের ট্রফি জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা।
ভক্তরা বলছেন, দেরিতে হলেও কিংবদন্তি গাভাসকার যে সঞ্জুর কদর বুঝতে পেরেছেন, সেটাই বড় প্রাপ্তি। এখন দেখার, আমদাবাদের ফাইনালে সঞ্জু তাঁর এই ‘অন্য গ্রহের’ ফর্ম ধরে রাখতে পারেন কি না।