হারারেতে গিল-ব্রিগেডের দাপট! জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে সিরিজ পকেটে পুরল ভারত

২০২৪ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে এক নতুন টিম ইন্ডিয়ার উত্থান দেখল বিশ্ব ক্রিকেট। অভিজ্ঞদের বিশ্রামে পাঠিয়ে তরুণ ব্রিগেডের ওপর ভরসা রেখেছিল বিসিসিআই। আর সেই আস্থার মর্যাদা দিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল ভারত। সিরিজের শেষ ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের দুরন্ত হাফ-সেঞ্চুরি এবং মুকেশ কুমারের আগুন ঝরানো বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৪২ রানে হারিয়ে ট্রফি নিজেদের করে নিল শুভমান গিলের দল।

সিরিজের শুরুটা অবশ্য সুখকর ছিল না। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের ধাক্কা খেতে হয়েছিল ভারতকে। মাত্র ১১৫ রান তাড়া করতে গিয়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু সেই অন্ধকার থেকেই উজ্জ্বল হয়ে ফেরে টিম ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় ম্যাচে অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী শতরান এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের দায়িত্বশীল ইনিংস ভারতকে সিরিজে সমতায় ফেরায়। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি ‘ইয়াং ইন্ডিয়া’কে।

পঞ্চম তথা শেষ টি-টোয়েন্টিতে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত স্কোরবোর্ডে ১৬৭ রান তোলে। শুরুতে দ্রুত উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও সঞ্জু স্যামসনের লড়াকু ৫৮ রান এবং শিবম দুবের ক্যামিও ভারতকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেয়। হারারের পিচে ১৬৭ রান যে যথেষ্ট ছিল, তা প্রমাণ করে দিলেন ভারতীয় বোলাররা। মুকেশ কুমার তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং (৪/২২) করে জিম্বাবুয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। ওয়াশিংটন সুন্দর এবং শিবম দুবেও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে ১২৫ রানে অল-আউট করে দেন।

শুভমান গিলের অধিনায়কত্বে এই সিরিজ জয় ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সক্ষমতা প্রমাণ করল। অভিষেক শর্মা, রিয়ান পরাগ এবং তুষার দেশপান্ডের মতো ক্রিকেটারদের অভিষেক ছিল এই সিরিজের বড় প্রাপ্তি। ব্যাটিংয়ে যেমন শুভমান গিল এবং যশস্বী জয়সওয়াল রান পেয়েছেন, তেমনই বোলিং বিভাগে রবি বিষ্ণোই এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের স্পিন জিম্বাবুয়ে ব্যাটারদের রীতিমতো কুপোকাত করেছে। ডেইলিয়ান্ট পাঠকদের জন্য স্পষ্ট বার্তা—আগামীর টিম ইন্ডিয়া প্রস্তুত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy